Collector
অভিষেকের ওপর হামলা: চড়-ঘুষি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় পরলেন হেলমেট | Collector
অভিষেকের ওপর হামলা: চড়-ঘুষি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় পরলেন হেলমেট
Somoy TV

অভিষেকের ওপর হামলা: চড়-ঘুষি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় পরলেন হেলমেট

ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই হামলার শিকার হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (৩০ মে) নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার সময় তাকে মারধর করে বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়-গায়ে। এসময় তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলটিও ভাঙা হয়।আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার শিকার হওয়ার পর ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যান তিনি। এসময় তাঁর গায়ে ডিম এবং জুতোও ছোড়া হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় গায়ের শার্ট।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিষেক সোনারপুরে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন জায়গায় নারীদের ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এই বিক্ষোভের মধ্যে চারচাকা গাড়িতে না-গিয়ে মূল রাস্তা থেকে নেমে দলীয় এক কর্মীর মোটারসাইকেলে বসেন সাংসদ অভিষেক। বহরে ছিলো মোট তিনটি বাইক। মাঝখানের বাইকে পিছনে বসেছিলেন তিনি। তার পিছনের আসনে আরও এক জন বসেছিলেন। তখনই বাইক ধাওয়া করে দৌড়োতে থাকেন কয়েকজন। তারপর শুরু হয় হামলা।এভাবে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছোন অভিষেক। সেখানে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায় তাকে। নিহত কর্মীর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সরকারকে।অভিষেক বলেন, ‘‘আমার মাথাটা বেঁচে গেছে হেলমেট ছিল বলে। আমার চশমা ভেঙে ফেলেছে। কিন্তু আমি হয়তো এই ভাবেই এখান থেকে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তো সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর চড়াও হবে ওই বখাটেগুলো।’’তিনি আরও বলেন, ‘‘ওরা আমায় মারতে চায়! মারুক! আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি হাই কোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। (নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির) দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। পুলিশের কেউ নেই এখানে। আমি এসপি এবং আইসি-কে জানাতে বলেছি। এখনও কোনও বাহিনী আসেনি।’’অভিষেকের দাবি, আগেভাগে তার কর্মসূচির কথা জেলা পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তারপরেও কাউকে দেখা যায়নি। তাকে বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। শুভেন্দুকে খোঁচা দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘যারা তৃণমূলকে চোর বলছে, তারা কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে হাত বার করে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখেছে? দু’কান কাটা, নির্লজ্জের মতো এখনকার মুখ্যমন্ত্রীকে টাকা নিতে দেখা গেছে। ঘুষ নিয়েছিল।’’ আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ঢুকতে সীমান্তে হঠাৎ বহু মানুষ, শুভেন্দু বললেন ‘জলদি ভাগো’শনিবার অভিষেকের কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের বাড়িতে যাওয়া। কলকাতার বেলেঘাটা হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর যান তিনি।বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিন সপ্তাহ পর শনিবার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামেন অভিষেক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটার দুই ‘আক্রান্ত’ তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি।বেলঘাটায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী বিশ্বনাথ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক।সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।সন্ধ্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে হুইল চেয়ারে করে বের করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা এখান থেকে শিফট করছি। এখানে ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না। ওপর থেকে বলে দিয়েছে ট্রিটমেন্ট না করতে।”

Go to News Site