Collector
শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে ভিড় করছেন অনেকেই | Collector
শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে ভিড় করছেন অনেকেই
Jagonews24

শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে ভিড় করছেন অনেকেই

ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে গাছের ছায়ায় আর নদীর কলতানে সময় কাটাতে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। শহরের কোলাহল ছেড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠ শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গায় গড়ে ওঠা বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস। তাই ঈদুল আজহার ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে পার্কে এসেছেন অনেকে। বুড়িগঙ্গা পাড়ে গেন্ডারিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্রটি। এখানে বিনোদনপ্রেমীরা মেতে উঠেছেন আনন্দে। আগতরা বলছেন, শহরের কোলাহল ছেড়ে সব শ্রেণির মানুষের কাছে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কটি সবুজ বৃক্ষরাজি আর বুড়িগঙ্গা নদী মিলিয়ে এক অনন্য স্থান। পার্কের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আসাদ জাগো নিউজকে বলেন, কোরবানির ঈদের দিন খুব বেশি লোকজন না আসলেও পরদিন লোকজনের আগমন ছিল মোটামুটি। কিন্তু ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সকাল থেকেই মানুষের উপচেপড়া ভিড়। গত দুই দিনেও এত লোক আসেনি। তিনি বলেন, পার্কটি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর টিকিট সংগ্রহ ও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পার্কে প্রবেশের টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা। আর রাইড উপভোগ করতে চাইলে রাইডভেদে ৩০ থেকে ১০০ টাকা খরচ করতে হবে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে সরেজমিনে ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এদিন সকাল থেকেই আসতে থাকেন বিনোদনপ্রেমীরা। তবে দুপুরের পর থেকেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর সংখ্যা। পার্কে আসা বেশিরভাগই শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী। মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে এসেছে তারা। আরও পড়ুনঈদের ছুটিতে ধানমন্ডি লেক ও কলাবাগান শিশু পার্কে জনস্রোত তীব্র রোদ, গরমেও বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়  পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শায়ানের এখন স্কুল ছুটি। এই সুযোগে মদীনাবাগ থেকে মা- বাবার সঙ্গে এখানে ঘুরতে এসেছে সে। পার্কে প্রবেশ করতেই তার চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেলো। বাবার উদ্দেশে সে চিৎকার করে বলে, ঢাকা শিশুপার্কে নেই। ঢাকার কোনো পার্কে এত এত রাইডস নেই, বাবা! পার্কে আসা বেশিরভাগ শিশুরই মেরিগো রাউন্ড রাইডটি প্রিয়। এখানেই শিশু-কিশোরদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এছাড়াও সেলফ কন্ট্রোল প্লেন, বোটারি কার, রকিং রেট, ক্যাম্পিং প্যাড, কয়েন অপারেটেড বেবি ফিগার এবং ওয়ান্ডার হুইলসহ বিভিন্ন রাইডের সামনেও ছিল ভিড়। অনেকে আবার পার্কের পাশ দিয়েই বয়ে চলা নদী দেখতে ভিড় জমিয়েছেন। পার্কের দক্ষিণে রয়েছে বড় ঘাট। সেখান থেকে নদী দেখা যায়। পার্কের মাঝ বরাবর রয়েছে হেঁটে বেড়ানোর জন্য চওড়া পথ। পথের পাশে ঝাউ, দেবদারু ও কড়ইসহ দেশীয় নানান প্রজাতির গাছের সারি। আবার বসার জন্য চারপাশে রয়েছে ছাউনি দেওয়া বেঞ্চ। সব মিলিয়ে পার্কটি এখন আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানে ২৫টিরও বেশি আকর্ষণীয় রাইড রয়েছে। পার্কটি গেন্ডারিয়া থানা থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকার যে কোনো স্থান থেকে নিজস্ব গাড়ি বা বাসে করে যাত্রাবাড়ী পৌঁছে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে যাওয়া যায়। নদীর পাড়ের দখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধার করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নয়নাভিরাম এ ইকোপার্কটি গড়ে তোলে। এফএইচ/কেএসআর

Go to News Site