Jagonews24
টান টান উত্তেজনা। কে হবে চ্যাম্পিয়ন? কার হাতে উঠবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা? নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। ১-১ সমতা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। মোট ১২০ মিনিটের খেলা শেষেও কেউ জিততে পারলো না। এরপর খেলা গড়ালো টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের খেলায়। সেই ভাগ্যের খেলায় পারলো না আর আর্সেনাল। পুরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অপরাজিত থাকার পরও টাইব্রেকারে এসে তারা হেরে গেলো। গানারদের টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতলো ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারলো না আর্সেনাল। ১২০ মিনিটের খেলা শেষে টাইব্রেকারে প্রথম শট নেন পিএসজির গনসালো রামোস। গোল, ১-০। আর্সেনালের প্রথম শট নেন ভিক্টর গিয়োকেরেস। গোল, ১-১। পিএসজির দ্বিতীয় শট নেন দেজিরে দুয়ে। গোল, ২-১। আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নেন এবেরেচি এজে। সর্বনাশটা করেন তিনি। স্টাইল করে শট নিতে গিয়ে বাম পাশ দিয়ে বাইরে মেরে দেন তিনি। গোল হয়নি, ২-১। পিএসজির তৃতীয় শট নেন নুনো মেন্ডেজ। গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই বলটি ফিরিয়ে দেন। গোল হয়নি, ২-১। আর্সেনালের তৃতীয় শট নেন ডেকলান রাইস। গোল, ২-২। পিএসজির চতুর্থ শট নেন আশরাফ হাকিমি। গোল, ৩-২। আর্সেনালের চতুর্থ শট নেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। গোল, ৩-৩। পিএসজির পঞ্চম শট নেন বেরালডো। গোল, ৪-৩। আর্সেনালের পঞ্চম শট নেন গ্যাব্রিয়েল। কিন্তু বলটি তিনি মেরে দেন পোস্টের অনেক ওপরে। ৪-৩ গোলে জয়ী পিএসজি। এর আগে ম্যাচ শুরুর ৬ষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের কাছ থেকে মাঝমাঠে বল পেয়ে প্রায় বিনা বাধায় কাই হাভার্টজ এগিয়ে যান বক্স লক্ষ্যে। ডি-বক্সে ঢুকে খুবই দুরহ অ্যাঙ্গেল থেকে বাম পায়ের জোরালো শর্টে পিএসজির জালে বল জাড়িয়ে দেন জার্মান তারকা কাই হাভার্টজ। ম্যাচে গোলের জন্য এটাই ছিল প্রথম শট এবং তাতেই স্বপ্নের শুরু পেয়ে যায় আর্সেনাল। ২০২০-২১ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে হাভার্টজের একমাত্র গোলেই ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল চেলসি। জার্মানির তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একাধিক আসরে গোল করলেন তিনি। ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে থেকে আর্সেনাল বেশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যদিও বল ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছিলো বার বার। তবুও প্রথমার্ধের বাকিটা সময় পিএসজির মুহুর্মুহু আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় আর্সেনালের ডিফেন্স। সর্বশেষ ৫ ম্যাচে ১ গোল হজম করাই বলে দেয় আর্সেনাল রক্ষণে কতটা শক্তিশালী। আজও সেটাই দেখাচ্ছিলেন তারা। ৪১তম মিনিটে নুনো মেন্দেসের কাটব্যাক বিপদমুক্ত করতে গিয়ে বিপদ প্রায় ডেকেই এনেছিলেন পিয়েরো ইনকাপিয়া। তার পায়ে লেগে আসা বলে ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি অরক্ষিত ফাবিয়ান রুইজ। বল যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুর্দান্ত স্লাইডে হাভার্টজের শট প্রতিহত করেন পিএসজি অধিনায়ক মার্কুইনহোস। ৫৫তম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় পিএসজি। আশরাফ হাকিমি শট নেন গোলরক্ষক দাভিদ রায়া বরাবর। তবে ৬২তম মিনিটে পিএসজি তারকা খাবিচা খাভারাৎসখেলিয়া একটি গোলের চেষ্টায় আর্সেনাল বক্সে ঢুকে পড়েন। তাকে ঠেকাতে হার্ড ট্যাকল করেন ক্রিশ্তিয়ান মসকুয়েরা। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক নিতে আসেন ওসমান ডেম্বেলে। তার নিখুঁত শট জড়িয়ে যায় আর্সেনালের জালে। ডেম্বেলের শট ঠেকাতে ডাম দিকে ডাইভ দেন গানার গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। কিন্তু লাভ হলো না। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে পিএসজি। এরপর দুই দলই বেশ আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চালায়। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। ৭৯তম মিনিটে একটুর জন্য জালের দেখা পাননি খাভারাৎসখেলিয়া। পাল্টা আক্রমণে নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে, উইলিয়াম সালিবাকে পরাস্ত করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যান এই উইঙ্গার। ডি বক্স থেকে তার জোরাল শট বেরিয়ে যায় পোস্টে লেগে! ৮৩তম মিনিটে খাভারাৎস্খেলিয়ার জায়গায় বদলি নামেন ব্রাডলি বারকোলা। দুই মিনিটের মধ্যেই গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তবে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে কোনোমতে বল নিয়ন্ত্রণে নেন আর্সেনাল গোলরক্ষক রায়া। শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। এ অংশের ৬ষ্ঠ মিনিটে বারকোলা দারুণ এক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর আর্সেনালের এবেরেচি এজে একটি পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। খেলার ১২০ মিনিটেও কেউ গোল করতে পারেনি। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। আইএইচএস/একিউএফ
Go to News Site