Collector
হরমুজে ফের উত্তেজনা, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | Collector
হরমুজে ফের উত্তেজনা, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
Somoy TV

হরমুজে ফের উত্তেজনা, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

গাম্বিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরানের বন্দরের দিকে যাত্রা করা একটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে অচল করে দেয়া হয়েছে। গাম্বিয়া পতাকাবাহী ওই জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের দিকে যাচ্ছিল বলে জানানো হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, মার্কিন বাহিনী দেখতে পায় যে এমভি লিয়ান স্টার নামের জাহাজটি ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছে। তখন জাহাজটিকে ২০ বারের বেশি সতর্ক করার পাশাপাশি জানানো হয় যে এটি মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছে। সেন্টকম জানায়, লিয়ান স্টারের ক্রুরা নির্দেশনা না মানায় একটি মার্কিন বিমান থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ‘হেলফায়ার মিসাইল’ নিক্ষেপ করে একে অচল করে দেয়া হয়। জাহাজটি আর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না। নৌ অবরোধের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল এবং ১১৬টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে সেন্টকম। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ছেই। হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ হস্তক্ষেপ করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এর মধ্যেই গাম্বিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। দুই পক্ষই বলছে, বার্তা বিনিময় চললেও মূল ইস্যুগুলোতে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও অতিরিক্ত শর্তকে কূটনৈতিক অগ্রগতির পথে বাধা হিসেবে দেখছে। আরও পড়ুন: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন / যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সহায়তায় ইরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় আমিরাত অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে হবে এবং হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। চলমান পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সদর দফতর খাতাম আল-আনবিয়া জানিয়েছে, প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এখন পূর্ণ কর্তৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশি সব বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে নির্ধারিত রুট অনুসরণ এবং আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ হস্তক্ষেপ বা নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির একজন সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখে কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ওয়াশিংটন আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল ও সংকটকে আরও গভীর করছে। আরও পড়ুন: লেবাননে স্থল অভিযান, লিতানি নদী পার হল ইসরাইলি সেনারা এছাড়া হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রানজিট ফি ইস্যু। কাতার জানিয়েছে, স্থায়ী টোল ব্যবস্থা তারা সমর্থন করে না, কারণ এতে বৈশ্বিক ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। তবে সাময়িক বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফি আরোপ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানায় দোহা।

Go to News Site