Somoy TV
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১১৩ বলে ১৭২ রানের ইনিংসে পরিচিতি পেয়েছিলেন সামীর মিনহাস। বড়ভাই আরাফাত মিনহাস জাতীয় দলের হয়ে ৪টি টি-টোয়েন্টি খেলে ফেললেও ছোট ভাইয়ের ছায়াতে ঢাকা পড়েই ছিলেন। কিন্তু আরাফাত জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে যা করলেন, পাকিস্তানের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ইতিহাসে তা করতে পারেননি আর কেউই। ২১ বছর বয়সী এই স্পিনারের ইতিহাস গড়া বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ে সিরিজ শুরু করল পাকিস্তান।শনিবার (৩০ মে) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেট ও ৪৫ বল হাতে রেখে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই ম্যাচে অভিষিক্ত আরাফাত মিনহাস দারুণ বোলিংয়ে ৫ উইকেট শিকার করে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন। এরপর বাবর আজম ও গাজি ঘোরির অর্ধশতকে ভর করে সহজ জয় পেয়েছে পাকিস্তান।২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৪২.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়। স্বাগতিকদের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন তৃতীয় উইকেটে বাবর আজম ও গাজি ঘোরির ১২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।তবে, লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ২৫ রানের মাথায় ৮ রান করে আউট হন ওপেনার মাআজ সাদাকাত। এরপর বাবর আজম মাঠে নেমে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ২৪ রান যোগ করেন। ফারহান ৩৩ বলে ২৮ রান করে তানভীর সাঙ্ঘার শিকার হন। আরও পড়ুন: আরাফাত মিনহাজের এই রেকর্ড পাকিস্তানের আর কারো নেইএরপর উইকেটকিপার ব্যাটার গাজি ঘোরিকে সঙ্গে নিয়ে বাবর ইনিংস গড়তে শুরু করেন। দুজনই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলেন।৩৯তম ওভারে নাথান এলিস স্লোয়ার বলে বাবরকে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে এই জুটি যোগ করে ১২৭ রান। বাবর ৯৪ বলে ৬৯ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছক্কা। পরের ওভারেই এলিস আরেক সেট ব্যাটার গাজি ঘোরিকে ফেরান। ঘোরি ৯২ বলে ৬৫ রান করেন, ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮টি চারে।৪৩তম ওভারের প্রথম বলেই মার্নাস লাবুশেনের বলে এলবিডব্লিউ হন সালমান আলি আগা (৬)। তবে তৃতীয় বলে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন আরাফাত মিনহাস। তিনি ১৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। তিনি ৭ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাথিউ কুনেম্যান, তানভীর সাঙ্ঘা ও মার্নাস লাবুশেন একটি করে উইকেট শিকার করেন।এর আগে টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে অস্ট্রেলিয়া ৪৪.১ ওভারে ২০০ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে অর্ধশতক করেন ম্যাথু শর্ট ও ম্যাট রেনশ।অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল স্থির। ম্যাথিউ শর্ট ও অ্যালেক্স ক্যারি প্রথম উইকেটে ৩৪ রান যোগ করেন। সপ্তম ওভারে আবরার আহমেদের বলে ১৯ রান করে আউট হন ক্যারি।এরপর অধিনায়ক জশ ইংলিসকে সঙ্গে নিয়ে শর্ট দ্বিতীয় উইকেটে ২৮ রান যোগ করেন। কিন্তু অভিষিক্ত আরাফাত মিনহাস ১৪তম ওভারে ইংলিসকে ১৩ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন।একই ওভারে তিনি মার্নাস লাবুশেনকে শূন্য রানে আউট করেন এবং পরের ওভারে ক্যামেরন গ্রিনকে বোল্ড করলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৬৮/৪।চাপের মুখে ম্যাথু শর্ট ও ম্যাট রেনশ পঞ্চম উইকেটে ৫৫ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই জুটির সময় শর্ট তার চতুর্থ ওয়ানডে অর্ধশতক পূর্ণ করেন।তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ২৭তম ওভারে আবারও মিনহাসের শিকার হয়ে ৭৬ বলে ৫৫ রান করে ফেরেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার।এরপর রেনশ দায়িত্ব নেন এবং অলিভার পিক (৭) ও ম্যাথিউ কুনেম্যানের (২৪) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ৩৯তম ওভারে আবরার আহমেদের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ৬৩ বলে ৬১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। আরও পড়ুন: দুই বোনের তাণ্ডবে স্কটল্যান্ডের কাছে জ্যোতিদের ৮ উইকেটের হাররেনশর বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার লেজের ব্যাটাররা আর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। পাকিস্তানের পেসাররা দ্রুত ইনিংস গুটিয়ে দেন।অভিষেক ম্যাচেই ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আরাফাত। পাকিস্তানের পক্ষে ওয়ানডেতে এটিই অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। এছাড়া আবরার আহমেদ ২টি এবং সালমান আলি আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ একটি করে উইকেট নেন।
Go to News Site