Collector
কেমন থাকে হজের পাঁচ দিনের তাঁবু জীবন? | Collector
কেমন থাকে হজের পাঁচ দিনের তাঁবু জীবন?
Jagonews24

কেমন থাকে হজের পাঁচ দিনের তাঁবু জীবন?

উটে করে হজে যাওয়ার রীতি বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগে। আমরা তাই মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম বাসে চড়ে। রাত তখন সাড়ে এগারোটা। আমাদের কাফেলার বাস মক্কা থেকে মিনায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৮ জিলহজ ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলো। তাঁবুর ভেতরে ঢুকে মনে হলো এ এক অন্য জগত। যদিও এয়ার কুলার আছে, কিন্তু সেই বাতাস সবাই পায় না। যাদের বিছানা কুলার বরাবর, বাতাস কেবল তারাই পায়, বাকিরা হা-হুতাশ করে। প্রত্যেকের জন্য এক হাত চওড়া বিছানা, একটা বালিশ, একটা চাদর। ওখানেই নামাজ পড়া, ঘুম, খাওয়া ও নফল ইবাদত। ওখানে শুয়ে-বসেই কাটে দিনের অধিকাংশ সময়। পাশ ফিরে শুতে গেলে পাশের জনের ছোঁয়া বাঁচানো মুশকিল। একজন বলে বসলেন, জেলখানায় শুনেছি এমন ঠাসাঠাসি করে ঘুমাতে হয়...। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ওয়াশরুম ব্যবহার। দিনের যে কোনো সময়ই যাই, দেখি দীর্ঘ লাইন। বয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়ে এই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সুকঠিন। দেখলাম বাইরে বোতলের সারি, অনেকেই মূত্র বিসর্জন দিয়ে বোতলজাত করেছেন। কেউ কেউ ছিপিটাও লাগিয়ে রেখে যাননি, ফলে গোটা এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অথচ এই সেই মিনা, যেখানে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশে কুরবানি করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। প্রায় চার হাজার বছর আগের সেই আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের ইতিহাস আজও মিনার প্রতিটি বালুকণায় যেন জীবন্ত হয়ে আছে। এখানেই শয়তান মানুষের রূপ ধরে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আল্লাহর আদেশ পালনে বাধা দিতে এসেছিল, আর তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতিতেই আজ হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল ‘রমি জামারাত’ (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) পালন করা হয়। মিনার ময়দান ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ, ধৈর্য ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছর পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমান এই প্রান্তরে সমবেত হয়ে নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই মহান ত্যাগের স্মৃতি পুনরিজ্জীবিত করেন। কিন্তু হজের প্রশিক্ষণে বা গাইড বইগুলোতে এখানে থাকা-খাওয়ার বিষয়ে কোনো গাইডলাইন পাইনি। ওয়াশরুম ব্যবহারে সচেতনতা, মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা, তাঁবুর ভেতরের পরিচ্ছন্নতা, অপরের ঘুম বা ইবাদতের ব্যাঘাত ঘটিয়ে উচ্চ স্বরে কথা না বলা - এসব নিয়ে প্রশিক্ষণে আলাদা ভাবে জোর দেওয়া উচিত। প্রশিক্ষণের পর অনলাইনে অথবা অফলাইনে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত টিকিট হস্তান্তর স্থগিত করা উচিত। এই বিষয়ে আমি দুই দেশে মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে অনুরোধ জানাবো, ইনশাআল্লাহ। চলবে... এমআরএম

Go to News Site