Jagonews24
দেশের সাধারণ (নন-লাইফ) বিমা খাতে এক ধরনের নীরব সংকট ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। দেশে ব্যবসা করা অধিকাংশ সাধারণ বিমা কোম্পানি গ্রাহকদের ঠিকমতো বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করছে না। ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানিতে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি দাবি বকেয়া পড়েছে। এই বকেয়া দাবির হার ৭৫ শতাংশ। বিমা কোম্পানি দাবির টাকা পরিশোধ না করায় সৃষ্টি হয়েছে আস্থার সংকট। এরই মধ্যে একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে বিমা করা বন্ধ করে দিয়েছে। বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানিতে বিমা দাবি উত্থাপন হয় ৪ হাজার ৬৭৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার। এর মধ্যে কোম্পানিগুলো দাবি পরিশোধ করেছে ১ হাজার ১৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ২৫ শতাংশ। বিপরীতে ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ৭৫ শতাংশ দাবি বকেয়া পড়ে রয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবেই গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধ করছে না। তবে ৭৫ শতাংশ দাবি বকেয়া পড়ার জন্য মূল দায়ী সাধারণ বিমা করপোরেশন। অনেক কোম্পানি সাধারণ বিমা করপোরেশন থেকে পুনঃবিমার টাকা ঠিকমতো পাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা বলছেন, গ্রাহকরা ঠিকমতো দাবির টাকা না পাওয়ায় এ খাতে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সামনে গ্রাহক ও ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশে ব্যবসা করা একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে বিমা করা বন্ধ করে, মূল কোম্পানি যে দেশের সেই দেশের বিমা কোম্পানিতে বিমা করছে। অন্যদিকে, সাধারণ বিমা করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সঠিকভাবে তথ্য-প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে পুনঃবিমার টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। সাধারণ বিমা করপোরেশনে বর্তমানে কোনো ধরনের সংকট নেই। মূলত কোম্পানিগুলো সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় টাকা পাচ্ছে না। বড় কোম্পানির কাঁধে বকেয়ার বড় চাপ তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমা করপোরেশনে সবচেয়ে বেশি বিমা দাবি বকেয়া পড়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বকেয়া দাবি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার বিমা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে মাত্র ২৯৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। পুরো খাতের বকেয়ার বড় অংশই এই একটি প্রতিষ্ঠানের। গ্রাহকরা ঠিকমতো দাবির টাকা না পাওয়ায় এ খাতে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সামনে গ্রাহক ও ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে বেসরকারি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সেও বড় অঙ্কের বিমা দাবি বকেয়া পড়েছে। ৪১১ কোটি ২ লাখ টাকা দাবির মধ্যে কোম্পানিটি মাত্র ৮১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৮২ শতাংশ পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া পড়েছে ৩২৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৮০ দশমিক ১৮ শতাংশ। রিলায়েন্স ও প্রগতি ইন্স্যুরেন্সেও শত কোটি টাকার ওপরে দাবি বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে রিলায়েন্স ২০০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ৫৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া পড়ে রয়েছে ১৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ১৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ১৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। চার প্রতিষ্ঠানের অবস্থা উদ্বেগজনক চারটি সাধারণ বিমা কোম্পানির দাবি পরিশোধের হার খুবই উদ্বেগজনক। এই কোম্পানিগুলোতে ৯০ শতাংশের বেশি দাবি বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ দাবি পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ, কোম্পানিটিতে ২৬ লাখ ৫৭ টাকা বা ৯৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ দাবি বকেয়া রয়েছে। পিপলস ইন্স্যুরেন্স ৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ৬ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ দাবি পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ, দাবি বকেয়া রয়েছে ৮৮ কোটি ৬ লাখ টাকা বা ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ৭৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার মধ্যে ৪ কোটি ৯৬ লাখ বা ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ দাবি পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ, কোম্পানিটির বকেয়া দাবির পরিমাণ ৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ৯৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। বাংলাদেশ কো-অপারেটি ৭ কোটি ১০ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ৫৬ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ, বকেয়া দাবি রয়েছে ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ৯২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আরও পড়ুনবিমা কোম্পানিকে দুর্নীতিতে উৎসাহিত করছে আইডিআরএদেশের ৩২ বিমা কোম্পানি উচ্চ ঝুঁকিতে: আইডিআরএহোমল্যান্ড লাইফ এখন যেন ‘হায় হায় কোম্পানি’ এ চার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও সাতটি প্রতিষ্ঠান দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে বেশ খারাপ অবস্থার রয়েছে। এর মধ্যে রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের দাবি পরিশোধের হার ১৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠনটি ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ২৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের দাবি পরিশোধের হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। কোম্পানিটি ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ১৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ ৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে, বিপরীতে বকেয়া ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সে ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে এবং বকেয়া ১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। এছাড়া অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের দাবি পরিশোধের হার ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া ৭ কোটি ২ লাখ টাকা। গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দাবি পরিশোধের হার ২২ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে এবং বকেয়া ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। মেঘনা ইন্স্যুরেন্সে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি পরিশোধের হার ২৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ভালো অবস্থানে কিছু কোম্পানি সার্বিকভাবে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোতে বিপুল পরিমাণ দাবি বকেয়া পড়লেও সব কোম্পানির চিত্র এক নয়। কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাবি নিষ্পত্তি করছে। ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রায় ৯৯ শতাংশ দাবি নিষ্পত্তি করেছে। কোম্পানিটি ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার দাবির মধ্যে ১৫ কোটি ৬১ লাখ বা ৯৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাবি পরিশোধ করেছে। জনতা, সোনার বাংলা, ইসলামী কমার্শিয়াল, ইউনিয়ন, ফেডারেল, প্রাইম ইসলামী বাংলাদেশ জেনারেল এবং ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সও দাবি পরিশোধের দিক থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এরমধ্যে জনতা ইন্সুরেন্স ২২ কোটি ২১ লাখ টাকা দাবির মধ্যে ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ৯৫ দশমিক ২০ শতাংশ পরিশোধ করেছে। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ১৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার মধ্যে ১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ৯০ দশমিক ৫১ শতাংশ, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স ৪৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মধ্যে ৪৫ কোটি ৫০ লাখ বা ৯৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকার মধ্যে ২৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা ৮৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ দাবি পরিশোধ করেছে। এছাড়া ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ২৫ কোটি ২৮ লাখ টাকার মধ্যে ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ৮৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ, প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ১৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার মধ্যে ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৮৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৫২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার মধ্যে ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বা ৮২ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার মধ্যে ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বা ৮১ দশমিক ৭৮ শতাংশ দাবি পরিশোধ করেছে। সার্বিকভাবে ৭৫ শতাংশ দাবি বকেয়া থাকা কিছুতেই সন্তোষজনক না। এই বকেয়া দাবির মূল কারণ সাধারণ বিমা করপোরেশন থেকে কোম্পানিগুলো ঠিকমত পুনঃবিমার টাকা পাচ্ছে না। পুনঃবিমা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা না পাওয়ার কারণে গ্রাহকদেরও দাবি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।—আহমেদ সাইফুদ্দীন এগুলোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে মোটামুটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে নিটল ইন্স্যুরেন্সের দাবি পরিশোধের হার ৭৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। কোম্পানিটি ১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সিকদার ইন্স্যুরেন্সের দাবি পরিশোধের হার ৭৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া আছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। রূপালী ইন্স্যুরেন্স দাবি পরিশোধ করেছে ২০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বিপরীতে বকেয়া আছে ৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ। সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বিপরীতে বকেয়া আছে ৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৬৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পায়োনিয়ার ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৮৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বিপরীতে বকেয়া আছে ৩৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৬৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং বকেয়া ১৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৬৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং বকেয়া আছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বকেয়া আছে ৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৬২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এছাড়া ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং বকেয়া আছে ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৬০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বিপরীতে বকেয়া আছে ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ। এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং বকেয়া আছে ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৫১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। অন্য কোম্পানিগুলোর চিত্র কিছু কোম্পানি ভালো এবং কিছু উদ্বেগজনক অবস্থায় থাকার পাশাপাশি কয়েকটি কোম্পানি দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে মাঝারি অবস্থানে রয়েছে। তবে তাদের দাবি পরিশোধের হারও সন্তোষজনক না। কারণ এই কোম্পানিগুলোর দাবি পরিশোধের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ এবং বকেয়া আছে ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৪৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ১০ কোটি ৯৮ লাখ এবং বকেয়া আছে ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ। তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২ কোটি ৩৪ লাখ এবং বকেয়া ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৪৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। আরও পড়ুনদেশের সব বিমা কোম্পানি এখন ‘অবৈধ’২০ জীবন বিমার লাগামহীন ব্যয়, শতকোটি টাকা ‘হাওয়া’বাবা-মেয়ের লুটপাটের শিকার সোনালী লাইফের ভবিষ্যৎ কী? এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৭ কোটি ৪১ লাখ এবং বকেয়া আছে ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৪২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২৯ কোটি ৯৫ লাখ এবং বকেয়া আছে ৪১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৪১ দশমিক ৮২ শতাংশ। সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২৩ কোটি ৮২ লাখ এবং বকেয়া আছে ৩৫ কোটি ২ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৪০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২৬ কোটি ৬১ লাখ এবং বকেয়া আছে ৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৩৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। সাধারণ বিমা করপোরেশন পুনঃবিমার দাবির টাকা পরিশোধ করছে না, এটা পুরোপুরি সত্য নয়। সব ধরনের ডকুমেন্ট ঠিকমতো জমা দিলে দাবির টাকা দেওয়া হচ্ছে। যেসব দাবির টাকা দেওয়া হচ্ছে না, তার বিপরীতে ঠিকমতো ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হচ্ছে না।—মো. আবদুল মতিন প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২৫ কোটি ৪৮ লাখ এবং বকেয়া আছে ৪০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৩৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ১১ কোটি ৩৬ লাখ এবং বকেয়া আছে ২০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৩৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৫ কোটি ২ লাখ টাকা এবং বকেয়া আছে ১১ কোটি ৬ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৩১ দশমিক ২০ শতাংশ। ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ২২ কোটি ৩৭ লাখ এবং বকেয়া আছে ৪৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধের হার ৩১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। কী বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা একটি বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাগো নিউজকে বলেন, ‘সার্বিকভাবে দাবি পরিশোধের হার ২৫ শতাংশ কিছুতেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। এটি পুরো খাতের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। স্বাভাবিকভাবে দাবি পরিশোধের হার ৮০ শতাংশের ওপরে থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো- কিছু কোম্পানির আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল। ফলে কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। আবার সাধারণ বিমা করপোরেশন থেকেও ঠিকমত পুনঃবিমার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। সবকিছু মিলে দাবি পরিশোধের এই করুণ চিত্র বিরাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘যেসব কোম্পানির দাবি পরিশোধের হার ১০ শতাংশের নিচে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে এটা বলা যায়। দাবি পরিশোধের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকাও সন্তোষনজক না। এভাবে বকেয়া দাবির হার বাড়তে থাকলে দেশের বিমা খাত গভীর সংকটের মধ্যে পড়বে।’ ‘এরই মধ্যে বিমার ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বাধ্য না হলে মানুষ বিমা করে না। আস্থা সংকটের কারণে দেশে ব্যবসা করা বেশ কিছু বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশের বিমা কোম্পানিতে বিমা করছে না’—যোগ করেন তিনি। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাইফুদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সার্বিকভাবে ৭৫ শতাংশ দাবি বকেয়া থাকা কিছুতেই সন্তোষজনক না। এই বকেয়া দাবির মূল কারণ সাধারণ বিমা করপোরেশন থেকে কোম্পানিগুলো ঠিকমত পুনঃবিমার টাকা পাচ্ছে না। পুনঃবিমা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা না পাওয়ার কারণে গ্রাহকদেরও দাবি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো যে ব্যবসা করে (প্রিমিয়াম আয়) তার ৮০ শতাংশের ওপরে পুনঃবিমা করা হয়। এই পুনঃবিমার ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ বিমা করপোরেশনে করতে হয়। বাকি ৫০ শতাংশ বাহিরে করা যায়। বাহিরে যে অংশ পুনঃবিমা করা হচ্ছে, সেই অংশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ বিমা করপোরেশনে করা ৫০ শতাংশ পুনঃবিমার টাকা তো পাওয়া যাচ্ছে না।’ যোগাযোগ করা হলে সাধারণ বিমা করপোরেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল মতিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাধারণ বিমা করপোরেশন পুনঃবিমার দাবির টাকা পরিশোধ করছে না, এটা পুরোপুরি সত্য নয়। সাধারণ বিমা করপোরেশন বর্তমানে কোনো ধরনের সমস্যার মধ্যে নেই। সব ধরনের ডকুমেন্ট ঠিকমত জমা দিলে দাবির টাকা দেওয়া হচ্ছে। যেসব দাবির টাকা দেওয়া হচ্ছে না, তার বিপরীতে ঠিকমতো ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হচ্ছে না।’ এমএএস/এমকেআর
Go to News Site