Somoy TV
ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। চোখ যতদূর যায়, শুধু মানুষের সমাগম। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে হাজারো ভ্রমণপিপাসু নেমেছেন নোনাজলের উচ্ছ্বাসে। কেউ সাগরে গোসল করছেন, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ মেতেছেন নানা বিনোদনে।গত দুই দিনে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার (৩০ মে) থেকে পর্যটক আগমন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য। পর্যটকদের ভিড়ে খুশি হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপদ সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ জোনে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।ঈদের ছুটি মানেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ ভ্রমণ। আর সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। আর সেখানই ভিড় জমিয়েছেন লাখো পর্যটক। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়।প্রচণ্ড রোদ আর তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে পর্যটকরা মেতে উঠেছেন সমুদ্রস্নান, খেলাধুলা আর ছবি তোলার আনন্দে। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে উৎসবের আমেজে সময় কাটাচ্ছেন তারা।ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক হাসিব খান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য কক্সবাজারই আমার প্রথম পছন্দ। নীল সমুদ্রের বিশালতা আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যেতে সবারই ভালো লাগে। বিশেষ করে সমুদ্রের গর্জনের যে অনুভূতি, তা শুধু কানে শুনে নয়, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। সেই অনন্য অনুভূতির টানেই বারবার কক্সবাজারে ছুটে আসি।’ঢাকার মতিঝিল থেকে আসা পর্যটক শিহাব সিকদার বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। সৈকতে অনেক মানুষের উপস্থিতি উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। ঘোড়ার পিঠে চড়ার অভিজ্ঞতাও নিয়েছি। এরই মধ্যে দু’বার ঘোড়ায় উঠেছি। যদিও কিছুটা ভয় লাগছিল, তবুও অভিজ্ঞতাটি ছিল বেশ রোমাঞ্চকর ও উপভোগ্য।’আরও পড়ুন: কক্সবাজার / সাগরতীরে ঈদ আনন্দ, বাড়ছে পর্যটকের ভিড়রংপুর থেকে আসা পর্যটক ইমরান ও রুবিনা হক বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এসে দারুণ সময় কাটছে। এখানে আসার অনুভূতিটাই আলাদা। ঘোড়ায় চড়া, বিচ বাইকে ঘোরাসহ বিভিন্ন বিনোদন উপভোগ করেছি। এখনো সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে সমুদ্রসৈকতে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দই অন্যরকম। এখানকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য আমাদের ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।’পর্যটক ফজলুল করিম বলেন, ‘ঈদের ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে এসেছি। স্ত্রী ও ছোট সন্তানদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। পরিবারের সঙ্গে এমন আনন্দঘন সময় কাটাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’এদিকে; ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে ছুটির তৃতীয় দিন থেকেই বদলে যায় চিত্র। পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে পুরো সমুদ্রসৈকত এলাকায়। পর্যটকের ভিড়ে স্বস্তি ফিরেছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে।জেট স্কি চালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দীর্ঘদিন পর সৈকতে এত বেশি পর্যটকের সমাগম দেখে আমরা খুবই আনন্দিত। পর্যটকদের ভিড় আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে ভালো ব্যবসা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম থাকায় আমরা ব্যবসায়ীরা কিছুটা লোকসানের মুখে পড়েছিলাম। তবে ঈদের এই পর্যটক সমাগম সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিতে সহায়তা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’ফটোগ্রাফার আব্দুল গফুর বলেন, ‘ঈদের আগের কয়েকদিন পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। তবে এখন পর্যটকের ভিড় অনেক বেড়েছে, ফলে সৈকতজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ঈদের পর থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় আমাদের ব্যবসাও ভালো চলছে। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে বেশ ভালো আয় হচ্ছে। আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও পর্যটকদের এই সমাগম অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের ব্যবসা আরও ভালো হবে।’তবে পর্যটকের এই বিপুল সমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে লাইফগার্ড কর্মীদের। তারা পর্যটকদের নিরাপদ জোনে গোসলের আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বেলা ১১টা থেকে সাগরে জোয়ার চলছে। জোয়ারের প্রভাবে ঢেউয়ের মাত্রা (উচ্চতা) কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও জীবনের ঝুঁকি নেই। তিনি বলেন, ৭০ থেকে ৮০ হাজার পর্যটকের ৮০ শতাংশ সমুদ্রে নেমে গোসল করছেন। তাদের সামাল দিতে ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও পর্যটকদের নিরাপত্তায় ৩ স্তরের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে পর্যটকের চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই আনন্দময় ভ্রমণের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site