Jagonews24
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণসহ জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ ও আইন প্রয়োগের বাস্তবতায় পুলিশ নিয়মিতভাবে মানুষকে প্রকাশ্যে ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। তবে ধূমপানকে জনউপদ্রব হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখনো শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। কারণ অনেক মানুষ প্রকাশ্যে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন। বিশেষ করে অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আবার, পুলিশ সদস্যদের সরাসরি জরিমানা করারও ক্ষমতা নেই। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে জরিমানার বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়ন করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী বিচারক বা বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটরা। আদালত প্রাঙ্গণের মতো সংবেদনশীল স্থানে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মানুষের আচরণগত পরিবর্তনও জরুরি। কার্যকর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলেই ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আশিস বিন হাছানের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তার সাক্ষৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আশিকুজ্জামান আশিক। জাগো নিউজ: আদালত প্রাঙ্গণে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: আমরা আমাদের অবস্থান থেকে মানুষকে ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। কেউ প্রকাশ্যে ধূমপান করলে তাকে নিবৃত্ত করা হয় এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করা হয়। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এ বিষয়ে আরও ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, আদালত প্রাঙ্গণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে এখনো শতভাগ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। জাগো নিউজ: আদালতপাড়ায় প্রতিদিন কী পরিমাণ মানুষের সমাগম হয়? মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: আমাদের জানা মতে, প্রতিদিন আদালতপাড়ায় প্রায় ৩০ হাজার আইনজীবী তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও প্রায় ২০ হাজার সহকারী ও কর্মী রয়েছেন। এছাড়া বিচারপ্রার্থী, সাক্ষী, আসামির স্বজন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ আদালত এলাকায় আসেন। ফলে এটি অত্যন্ত জনবহুল একটি এলাকা, যেখানে জনস্বাস্থ্য ও শৃঙ্খলার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। আরও পড়ুনধূমপান যেভাবে নষ্ট করে আপনার হার্টধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ সংসদে ৮ বিল পাসশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সিগারেট বিক্রি করলে ৫০০০ টাকা জরিমানাঢাবির হলে ধূমপানে জরিমানা, মাদক সেবনে বহিষ্কার জাগো নিউজ: আদালত এলাকায় ধূমপানকে কতটা গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখেন? মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: ধূমপানকে আমরা একটি ‘পাবলিক নুইসেন্স’ বা জনউপদ্রব হিসেবে বিবেচনা করি। কারণ এর ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, আশপাশের অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে এ ধরনের আচরণ অন্যদের জন্য অসুবিধা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। পুরান ঢাকার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে চলছে ধূমপান, ছবি: জাগো নিউজ জাগো নিউজ: পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে ধূমপান বিষয়ে কোনো বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে কি? মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: অবশ্যই। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য ধূমপান কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাদের আচরণ সাধারণ মানুষের জন্য উদাহরণ হওয়া উচিত। তাই জনসম্মুখে ধূমপান থেকে বিরত থাকার বিষয়ে তাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকতে বলা হয়। জাগো নিউজ: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে দুই হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পুলিশ কি সরাসরি এই জরিমানা করতে পারে? আরও পড়ুননারী-পুরুষ সবার জন্যই প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধধূমপান কি সত্যিই পুরুষের বন্ধ্যাত্ব ডেকে আনে?ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের মূল্যস্তর কমানোর দাবিধূমপানের কারণে হার্ট হয়ে যায় মোটা ও দুর্বল, বলছে গবেষণা মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: না, পুলিশের সরাসরি জরিমানা করার কোনো ক্ষমতা নেই। অনেকের মধ্যে এ বিষয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। সংশোধিত আইনে জরিমানার বিধান থাকলেও সেটি মূলত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ম্যাজিস্ট্রেটরাই এ ধরনের জরিমানা আরোপ করতে পারেন। জাগো নিউজ: আদালত প্রাঙ্গণে এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারা দায়িত্ব পালন করেন? মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: আদালত প্রাঙ্গণ পুরোপুরি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। এছাড়া মহানগর এলাকায় কিছু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া রয়েছে। তারা যানবাহন সংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্যান্য জনউপদ্রবের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ‘অন দ্য স্পট’ জরিমানা করার ক্ষমতা রাখেন। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রকাশ্য স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে তা মানা হচ্ছে না, ছবি: জাগো নিউজ জাগো নিউজ: আদালত প্রাঙ্গণসহ জনসমাগমস্থলকে ধূমপানমুক্ত করতে কী প্রয়োজন বলে মনে করেন? মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের আচরণগত পরিবর্তন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন মানুষ নিজ থেকেই ধূমপানের ক্ষতিকর দিক উপলব্ধি করবে এবং অন্যের স্বাস্থ্যগত অধিকারকে সম্মান করবে, তখন পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। আইনগত ব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলেই আদালত প্রাঙ্গণসহ দেশের বিভিন্ন জনসমাগমস্থলকে আরও কার্যকরভাবে ধূমপানমুক্ত করা সম্ভব হবে। জাগো নিউজ: ঈদের ছুটির মধ্যেও জাগো নিউজকে সময় দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ এবং ঈদের শুভেচ্ছা। মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ এবং ঈদের শুভেচ্ছা। এমডিএএ/এমএমএআর
Go to News Site