Collector
কানাডার নাগরিক হতে আগ্রহী বহু আমেরিকান, কারণ কী | Collector
কানাডার নাগরিক হতে আগ্রহী বহু আমেরিকান, কারণ কী
Somoy TV

কানাডার নাগরিক হতে আগ্রহী বহু আমেরিকান, কারণ কী

ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও, সম্প্রতি সম্প্রসারিত নাগরিকত্ব আইনের আওতায় কানাডীয় নাগরিকত্ব অনুমোদনের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অনেক মার্কিনি কানাডার নাগরিক হওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগে যেখানে শুধুমাত্র প্রথম প্রজন্মের বিদেশে জন্ম নেয়া কানাডিয়ান বংশধররা নাগরিকত্ব দাবি করতে পারতেন, সেখানে এখন আরও দূরবর্তী প্রজন্মের বংশধররাও সেই সুযোগ পাচ্ছেন। কানাডার অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত বংশসূত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ অনুমোদনের সংখ্যা প্রতি মাসে এক হাজারেরও বেশি বেড়েছে। এর তুলনায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যখন নতুন আইন কার্যকর হয়, সেসময় অতিরিক্ত অনুমোদনের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭৫। তথ্যে আরও দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রায় ৪৮ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এই উচ্চ হার দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত করে যে, অনেক আমেরিকান কানাডাকে বসবাস বা উচ্চশিক্ষার জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক মার্কিন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে। সিয়াটল-ভিত্তিক ৪১ বছর বয়সি উইলিয়াম হানিওয়েল, যিনি এ বছরের শুরুতে আবেদন করেছেন এবং ৯ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে উত্তর পাওয়ার আশা করছেন, বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এটি আমাদের পরিবারকে বিকল্পের সুযোগ দেয়।’ তার প্রপিতামহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে সাসকাচুয়ানে বসতি স্থাপনকারী ছিলেন এবং তার দাদা কানাডায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আরও পড়ুন: গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র হানিওয়েল আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে যদি কানাডায় পড়াশোনা বা বসবাস করতে চায়, তাহলে সে সরাসরি যেতে পারবে– কোনো ভিসা বা সময়সীমার ঝামেলা থাকবে না।’ যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী নিক বার্নিং-এর মতে, নতুন আইনের আওতায় অনুমোদন পাওয়া অধিকাংশ নতুন নাগরিক সম্ভবত বিদেশেই বসবাস করবেন, তবে তারা ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প খোলা রাখতে চান। বার্নিং বলেন, কানাডার নাগরিকত্বের প্রতি বর্তমান আগ্রহ অবশ্যই মার্কিন রাজনীতির প্রভাব বহন করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে চান, কিন্তু পরিস্থিতি যদি অসহনীয় হয়ে ওঠে, তাহলে বেরিয়ে যাওয়ার একটি পথও তারা হাতে রাখতে চান। যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। এদিকে, ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গ তোলার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ রয়টার্সকে জানিয়েছে, নতুনভাবে চালু হওয়া নাগরিকত্ব প্রমাণের এই শ্রেণিতে অনুমোদনের সংখ্যা জানুয়ারিতে ছিল ১,১৪০, ফেব্রুয়ারিতে ১,২৫৫ এবং মার্চে ১,৪০৫। কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইন ২০২৩ সালের একটি আদালতের রায়ের পর প্রণয়ন করা হয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, বিদেশে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বকে শুধু প্রথম প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা অসাংবিধানিক। ফলে, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম কানাডার বাইরে বসবাস করেছেন, তারাও এখন বংশগত সম্পর্কের প্রমাণ দিতে পারলে কানাডার নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডা যেখানে অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা কমানোর চেষ্টা করছে, সেখানে এই পরিবর্তনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বার্নিং উল্লেখ করেন, যেসব নতুন নাগরিক কখনো কানাডায় বসবাস করেননি, তারা বিদেশে জন্ম নেয়া নিজেদের সন্তানদের কাছে অনির্দিষ্টকাল ধরে এই নাগরিকত্ব হস্তান্তর করতে পারবেন না। সূত্র: রয়টার্স

Go to News Site