Collector
পে-স্কেল: ১ জুলাই আসছে সুখবর, তিন ধাপে যেভাবে বাড়বে বেতন | Collector
পে-স্কেল: ১ জুলাই আসছে সুখবর, তিন ধাপে যেভাবে বাড়বে বেতন
Somoy TV

পে-স্কেল: ১ জুলাই আসছে সুখবর, তিন ধাপে যেভাবে বাড়বে বেতন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। নতুন অর্থবছরের বাজেট থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে এবং পুরো পে-স্কেল একবারে কার্যকর হবে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বাজেটেই নতুন বেতন কাঠামো নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়ন হবে। তবে বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখনও কথাবার্তা চলছে।’ নবম পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বাজেটেই শুরু হবে।’তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাঅর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নবম পে-স্কেল আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের একটি বড় অংশ কার্যকর করা হবে। এজন্য বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ।আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলে যারা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেননবম পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন একবারে না বাড়িয়ে তিন অর্থবছরে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থবছরে ৫০% করে মূল বেতন বৃদ্ধি পাবে এবং তৃতীয় অর্থবছরে নতুন বেতনকাঠামোর বাকি অংশ ও ভাতা কার্যকর করা হবে।পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধাপগুলো হলো:প্রথম ধাপ (প্রথম বছর): প্রস্তাবিত পে-স্কেলের বর্ধিত মূল বেতনের (Basic Pay) প্রথম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।দ্বিতীয় ধাপ (দ্বিতীয় বছর): পরবর্তী অর্থবছরে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ যুক্ত হবে।তৃতীয় ধাপ (তৃতীয় বছর): তৃতীয় অর্থবছরে সার্বিক বেতনকাঠামোর চূড়ান্ত সমন্বয় ও অন্যান্য ভাতা (যেমন—বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি) বাস্তবায়ন করা হবে। ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবজাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত কাঠামোতে—সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।বর্তমানের মতো ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে।সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ১:৯.৪।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পুরো সুপারিশ একযোগে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তনের মূল চিত্র:১ম গ্রেড: নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, ১ম গ্রেডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মূল বেতন বর্তমানের ৭৮,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সরাসরি ১,১৭,০০0 টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে।১০ম গ্রেড: মধ্যম স্তরের অর্থাৎ ১০ম গ্রেডের মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেল: সবার ৫০ শতাংশ বাড়বে, না ১১ গ্রেড থেকে দ্বিগুণ?২০তম গ্রেড: সর্বনিম্ন স্তরের অর্থাৎ ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১২,৩৭৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো (১ম থেকে ২০তম গ্রেড)গ্রেড বর্তমান মূল বেতন (টাকা) ৫০% বৃদ্ধিতে প্রস্তাবিত নতুন বেতন (টাকা)১ম ৭৮,০০০ ১,১৭,০০০২য় ৬৬,০০০ ৯৯,০০০৩য় ৫৬,৫০০ ৮৪,৭৫০৪র্থ ৫০,০০০ ৭৫,০০০৫ম ৪৩,০০০ ৬৪,৫০০৬ষ্ঠ ৩৫,৫০০ ৫৩,২৫০৭ম ২৯,০০০ ৪৩,৫০০৮ম ২৩,০০০ ৩৪,৫০০৯ম ২২,০০০ ৩৩,০০০১০ম ১৬,০০০ ২৪,০০০১১তম ১২,০০০ ১৮,৭৫০১২তম ১১,৩০০ ১৬,৯৫০১৩তম ১১,০০০ ১৬,৫০০১৪তম ১০,২০০ ১৫,৩০০১৫তম ৯,৭০০ ১৪,৫৫০১৬তম ৯,৩০০ ১৩,৯৫০১৭তম ৯,০০০ ১৩,৫০০১৮তম ৮,৮০০ ১৩,২০০১৯তম ৮,৫০০ ১২,৭৫০২০তম ৮,২৫০ ১২,৩৭৫* ১১তম গ্রেডের বর্তমান বেতনের সংখ্যা অসম্পূর্ণ ছিল, তাই সম্ভাব্য মান হিসেবে ধরা হয়েছে।কেন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন?অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ড. এ কে এনামুল হক মনে করেন, একসঙ্গে পুরো পে-স্কেল কার্যকর করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, বাজারে মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কমিশন তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদও মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বড় বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।পেনশন ও ভাতাতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশনতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি পেনশন ও বিভিন্ন ভাতায়ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।সুপারিশ অনুযায়ী—মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হতে পারে ৭৫ শতাংশ। ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ।এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন সরকারি কর্মচারীদের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা বিশেষ ভাতার সুপারিশও করা হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরাসরি প্রায় ২৪ লাখ মানুষ এর সুফল পাবেন।

Go to News Site