Somoy TV
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারি, আটকের প্রতিবাদে রোববার (৩১ মে) সকালে চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়ে আহত হলেন তৃণমূল সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, তাকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়েছে। তাতে মাথায় আঘাত লেগে তৃণমূল সাংসদকে পড়ে যেতে দেখা যায়। তাকে হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছে। পরে চণ্ডীতলা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান কল্যাণ।তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, তাকে ঢিল ছুড়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলছেন, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। কল্যাণ অভিযোগ জমা দিয়েছেন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজও দেখা হচ্ছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ভিড়ের মধ্যে একজন মোবাইল দিয়ে কল্যাণের মাথার পেছনে আঘাত করে পালিয়ে যান। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। রোববার দুপুরে কল্যাণকে তার ভবানীপুরের বাড়িতে দেখতে যান সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে সামাজিক মাধ্যমে মমতা পোস্ট দিয়ে জানান, বিজেপি ‘পরিকল্পনা’ করে কল্যাণের ওপরে হামলা চালিয়েছে, যেমন শনিবার (৩০ মে) তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর করা হয়েছিল। অন্যদিকে, অসিত মজুমদার, চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ, ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা, কাউন্সিলর রঞ্জন রাহা, নির্মল চক্রবর্তী, সমীর সরকারসহ ১০ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। শনিবার সোনারপুরে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। সেই ঘটনায় শনিবার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন অসিতরা। এসময় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও পড়ুন: চড়-ঘুষি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় হেলমেট পরলেন অভিষেক জানা যায়, অভিষেকের ঘটনা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারি এবং হেনস্থার প্রতিবাদে রোববার চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যান কল্যাণ। তার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরাও। তারা থানার সামনে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেসময় তাকে কালো পতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ। ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। কল্যাণ জানিয়েছেন, সেসময় তাকে লক্ষ্য করে দূর থেকে ঢিল ছোড়া হয়। তাতে মাথায় আঘাত লাগে তৃণমূল সাংসদের। তিনি থানার সামনেই তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে বসে পড়েন। এরপরেই বিজেপির দিকে আঙুল তুলে কল্যাণ বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী খুনি মুখ্যমন্ত্রী, স্বেচ্ছাচারী। যে কোনো উপায়ে (আমাদের) মেরে ফেলতে চায়। বাংলার মানুষের কাছে আবেদন, আপনারা সচেতন হন। আজ আমায় মারছে, আপনি দূর থেকে দেখছেন। কাল বিজেপির গুন্ডারা আপনার মেয়েকে যখন টেনে ধরবে, তখন আপনাদের পাশে কেউ থাকবে না। যতদিন তৃণমূল আছে, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, ততদিন আমরা লড়াই করে যাব।’ তৃণমূল সাংসদ আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকেও। বলেন, ‘শুভেন্দু মাইনে দেন না। থানার আইসি ইচ্ছা করে আমাকে মার খাওয়ালেন।’ শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিষেক। এলাকায় পৌঁছোতেই জনরোষের কবলে পড়েন তিনি। তাকে লক্ষ্য করে জুতা এবং ডিম ছোড়া হয়। পাথরও ছোড়েন কেউ কেউ। সঙ্গে চলে ‘চোর চোর’ স্লোগান। আঘাত থেকে বাঁচতে অভিষেক মাথায় হেলমেট পরে নিয়েছিলেন। তার পরেও ধস্তাধস্তিতে তার জামা ছিঁড়ে যায়। নিহত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দীর্ঘক্ষণ সেখানেই বসেছিলেন অভিষেক। বিকেলে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দাবি, হামলা বিজেপির পরিকল্পিত। এরপরই রোববার চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়ে কল্যাণ হেনস্থার শিকার হলেন বলে অভিযোগ। সূত্র: আনন্দবাজার
Go to News Site