Collector
হাতিরঝিলে এখনো যত্রতত্র ময়লা, পড়ে আছে গবাদিপশুর মলমূত্রও | Collector
হাতিরঝিলে এখনো যত্রতত্র ময়লা, পড়ে আছে গবাদিপশুর মলমূত্রও
Jagonews24

হাতিরঝিলে এখনো যত্রতত্র ময়লা, পড়ে আছে গবাদিপশুর মলমূত্রও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসন্তোষ প্রকাশ করার পর হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। শনিবার (৩০ মে) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম রোববারও (৩১) দেখা গেছে। তবে এখনো ঝিলের বিভিন্ন অংশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, এমনকি গবাদিপশুর মলমূত্রও পড়ে থাকতে দেখা যায়। সরেজমিনে রোববার বিকেল ৪টার দিকে হাতিরঝিল ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সর্বত্র প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, কাগজ ও অন্যান্য বর্জ্য পড়ে রয়েছে। এক জায়গায় গরুর গোবরও পড়ে থাকতে দেখা যায়। অবশ্য হাতিরঝিলের অল্পকিছু জায়গা পরিষ্কারও দেখা গেছে। হাতিরঝিলের বেশিরভাগ জায়গায় ময়লা পড়ে থাকলেও রাজউকের একাধিক দলকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়। একটি দলকে দেখা যায় মহানগর এলাকার ফ্লাইওভারের দেওয়ালে থাকা আগাছা পরিষ্কার করতে। অন্য একটি দল মধুবাগ এলাকায় আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত ছিল।  ঝিলের রামপুরা-মগবাজার অংশের এলাকায় একটি দলকে ট্রাকে করে আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। অন্য একটি দলকে তেজগাঁও-গুলশান এলাকায় আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তবে ঝিলের পানিতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণে কোনো কর্মী বা নৌযানকে কাজ করতে দেখা যায়নি। হাতিরঝিলে আবর্জনা পরিষ্কার করা একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা আজ ভোর ৬টা থেকে কাজ করছি। গতকালও আমাদের লোকজন এখানে কাজ করে গেছে। আগামী কয়েকদিন পরিষ্কারের কাজ চলবে। তিনি বলেন, হাতিরঝিলে যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা তা ২-৩ দিনে পরিষ্কার করা সম্ভব না। যেভাবে কাজ চলছে তাতে ১০ দিনের বেশি লেগে যেতে পারে। আমরা আমাদের সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছি। রামপুরা-মগবাজার অংশে পরিষ্কার কাজে নিয়োজিত মোহন নামের একজন কর্মী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব ঝিলের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার। কিন্তু এতো ময়লা তো সহজে পরিষ্কার করা সম্ভব না। আজকে দুই ট্রাক ময়লা নিয়ে গেছি। এখনো বেশিরভাগ এলাকা পরিষ্কার করা হয়নি। সব পরিষ্কার করতে গেলে দুই সপ্তাহ তো লাগবেই। হাতিরঝিলের মহানগর এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে গরুর গোবর পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার করতে করতে যাচ্ছি। এখনো এতদূর যাইনি। ওই অঞ্চলে যখন পরিষ্কারের কাজ করবো, তখন সব পরিষ্কার করা হবে। ফ্লাইওভার ওয়ালের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করা এক কর্মী বলেন, আমরা পাঁচজন আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছি। একদিনে এতো আগাছা পরিষ্কার করা সম্ভব না। যতটা পারি আজ করবো। আগামীকাল আবার পরিষ্কারের কাজ হবে। তিনি বলেন, আমাদের কাজ শুধু আগাছা পরিষ্কার করা। রাস্তা ও রাস্তার ধার পরিষ্কারের কাজের লোক আলাদা। আমাদের যে কাজ আমরা ৪-৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি। হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা তাওসিফা নামের একজন বলেন, গতকাল সংবাদে দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষের পর হাতিরঝিল পরিষ্কার করার কাজ চলছে। কিন্তু আজ হাতিরঝিলে এসে দেখি সব জায়গায় ময়লা আর ময়লা। কোথাও কোথাও দুর্গন্ধও আছে। খাবার প্যাকেট, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতলসহ নানান ধরনের ময়লা পড়ে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যারা হাতিরঝিলে ঘুরতে আসি, তাদেরও সচেতন হওয়া উচিত। ঝিলের বিভিন্ন জায়গায় ময়লার ডাসবিন আছে। কিন্তু মানুষ সেখানে ময়লা না ফেলে যেখানে-সেখানে ফেলে। এ কারণে এতো নোংরা। আরেক দর্শনার্থী মাইমুনা বলেন, যেখানে-সেখানে খাবার প্যাকেট, কোমল পানীয়র বোতল তো পড়েই আছে। আবার গরুর গোবরও দেখলাম। হাতিরঝিলের মতো জায়গায় গরুর গোবর পড়ে রয়েছে, চিন্তা করে দেখেন কী অবস্থা! তিনি বলেন, হাতিরঝিল কেউ দেখভাল করে বলে তো মনে হচ্ছে না। সঠিকভাবে তদারকি করা হলে কিছুতেই এমন একটি বিনোদনকেন্দ্রের এতো বাজে অবস্থা হতো না। যেখানে-সেখানে ময়লা তো আছেই, এর সঙ্গে বখাটেদের আড্ডাও চারপাশে। ‘হাতিরঝিলে এসে কেউ প্রকাশ্যে জুয়া খেলছে, কেউ মাদক সেবন করছে। ঝিল পরিষ্কারের পাশাপাশি এগুলো বন্ধ করারও উদ্যোগ নেওয়া উচিত’—বলেন ওই দর্শনার্থী। এমএএস/এমকেআর

Go to News Site