Collector
ঈদের ছুটিতে ‘মিনি কক্সবাজারে’ দর্শনার্থীর ভিড় | Collector
ঈদের ছুটিতে ‘মিনি কক্সবাজারে’ দর্শনার্থীর ভিড়
Jagonews24

ঈদের ছুটিতে ‘মিনি কক্সবাজারে’ দর্শনার্থীর ভিড়

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানীর পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র ‘মিনি কক্সবাজারে’ উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।  রোববার (৩১ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ডেমরার ধার্মিক পাড়ায় অবস্থিত জলাশয়কেন্দ্রিক এই বিনোদন স্পটে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি। ঈদের ছুটি উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় জমিয়েছেন। ছবি: জাগো নিউজ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের চাপে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে কোনাপাড়া থেকে ধার্মিক পাড়া পর্যন্ত সড়কে অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপ ও অপরিকল্পিত চলাচলের কারণে দর্শনার্থীদের অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েন। তবে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এসে সেখান থেকে মানিকদীগামী সড়ক দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এগোলেই পৌঁছানো যায় স্পটটিতে। জলাশয়ের চারপাশে গড়ে ওঠা বিনোদন সুবিধা এবং নৌভ্রমণের সুযোগের কারণে এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ছবি: জাগো নিউজ এখানকার প্রধান আকর্ষণ বড় একটি জলাশয়, যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য নৌকা ও প্যাডেল বোটে ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩০ মিনিটের জন্য নৌকা বা প্যাডেল বোট ভাড়া দিতে হয় ৩০০ টাকা। দুটি আলাদা ঘাট থেকে এসব নৌযান পরিচালিত হয়। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দা রফিকুল হোসেন বলেন, ‘ছুটির দিনে পরিবারকে নিয়ে কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার সুযোগ খুব কম। তাই এখানে এসেছি। দূরত্ব বেশি না হলেও রাস্তায় প্রচণ্ড যানজটের কারণে আসতে অনেক সময় লেগেছে। নৌকায় চড়ার জন্যও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’ ছবি: জাগো নিউজ জলাশয়ের পাশেই কয়েকটি পার্ক গড়ে উঠেছে। সেখানে শিশুদের জন্য রয়েছে চরকি, দোলনা, ট্রেন, জাম্পার, স্লাইডার ও ছোট নৌকা চালানোর মতো নানা রাইড। সাম্পান আকৃতির দোলনায় চড়তে জনপ্রতি ৬০ টাকা দিতে হয়। স্লাইডারে ১৫ মিনিট খেলতে লাগে ১০০ টাকা। এছাড়া ছোট জলাধারে পাঁচ মিনিট নৌকা চালানোর জন্য গুনতে হয় ৫০ টাকা। এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পার্কগুলোর ভেতর ও আশপাশে ফুচকা, চটপটি, আচার, আইসক্রিম ও বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিট ফুডের দোকান বসেছে। পাশাপাশি শিশুদের খেলনা, ফুল ও অন্যান্য সামগ্রীর অস্থায়ী স্টলও রয়েছে। ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে আসা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর এই অংশে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর মতো জায়গা খুবই সীমিত। সে কারণে মানুষ এখানে ভিড় করছে। তবে রাস্তায় শৃঙ্খলার অভাব স্পষ্ট। যানজটের কারণে পুরো আনন্দটাই অনেকটা মাটি হয়ে যায়।’ ছবি: জাগো নিউজ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রাইডে তুলনামূলক বেশি টাকা নেওয়া হলেও মানুষের আগ্রহ কমছে না। কারণ কাছাকাছি বিকল্প বিনোদনকেন্দ্র নেই বললেই চলে।’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। এতে কোনাপাড়া থেকে ধার্মিক পাড়া পর্যন্ত সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেকে যানজটে আটকে না থেকে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের মতে, ঈদ ও সরকারি ছুটির সময় দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। আরএমএম/এমএমকে

Go to News Site