Somoy TV
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সী গাল পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নেমে মোহাম্মদ আবির নামের ১৮ বছর বয়সী এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন।রোববার (৩১ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রে নামার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ আবির পুরান ঢাকার লালবাগ থানার শহীদনগর এলাকার ইলিয়াস মুন্সীর ছেলে। প্রশাসন জানায়, তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা ৯ সদস্যের একটি পিকনিক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছিলেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দলটি রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারে পৌঁছে সি ল্যান্ড গেস্ট হাউজে অবস্থান নেয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা সী গাল পয়েন্টে সমুদ্রে গোসল করতে নামে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবির একটি টিউব ব্যবহার করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি টিউব থেকে পানিতে পড়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন। সাগর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া তার বন্ধু ফাহিম জানান, প্রথমে তারা অগভীর পানিতে ছিলেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা গভীর পানিতে চলে যান। হঠাৎ বড় ঢেউয়ের আঘাতে সবাই ছিটকে পড়ে যান এবং তারা বুঝতে পারেন পায়ের নিচে আর মাটি নেই। ফাহিম আরও বলেন, আবির সাঁতার জানতেন না। প্রবল স্রোতের মধ্যে নিজেও ভেসে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়ি এবং দীর্ঘ সময় লড়াই করে একপর্যায়ে লাইফগার্ডের সহায়তায় তীরে ফিরতে সক্ষম হলেও আবিরকে আর দেখা যায়নি। আরও পড়ুন: সাগরের জলে ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা পর্যটকরা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটুকু? নিখোঁজ আবিরের আরেক বন্ধু ইমন ইসলাম জানান, তারা মূলত ছবি তোলার উদ্দেশ্যে সৈকতে গিয়েছিলেন। তবে আবিরের উচ্ছ্বাসের কারণে সবাই একে একে পানিতে নেমে পড়েন। একপর্যায়ে স্রোতের টানে আবির ও ফাহিম গভীর পানিতে চলে যান এবং বড় ঢেউয়ের আঘাতে তারা আলাদা হয়ে যান। আরেক বন্ধু ইব্রাহীম বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সী সেফ লাইফগার্ডের উদ্ধারকর্মীরা জানান, ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ফাহিমকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও আবির নিখোঁজ রয়েছেন। লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে এখনো তল্লাশি অভিযান চলছে। লাইফগার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পর্যটকদের অনেকেই সৈকতের সতর্ক সংকেত ও পতাকার অর্থ বুঝতে না পেরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নেমে পড়েন। বর্তমানে সাগরও উত্তাল, তাই এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং সেখানে পর্যটকদের বারবার নিষেধ করা হয়। সতর্কতা উপেক্ষা করেই তারা পানিতে নেমেছিলেন। ঘটনার পর থেকে সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
Go to News Site