Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। সংকটেও ধারকর্জের মহাবাজেট - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি জোট সরকারের প্রথম বাজেট প্রায় চূড়ান্ত। বিশেষ পরিবর্তন না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটটি ১১ জুন সংসদে উত্থাপন করা হবে। সরকার এমন এক সময়ে বাজেট দিতে যাচ্ছে, যখন তহবিলসংকটে রীতিমতো ঋণ করে চলছে। এরই মধ্যে বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ নিয়েছে সরকার। রাজস্ব ঘাটতি লাখ কোটি টাকা বেশ আগেই ছাড়িয়েছে। অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্থর গতির কারণে সরকারকে অনেকটাই ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।পরকীয়ায় বাড়ছে নৃশংস খুন - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরকীয়ায় তছনছ হয়ে যাচ্ছে সাজানো সংসার। ঘটছে একের পর এক নৃশংস খুন, বাড়ছে পারিবারিক নির্যাতন। সন্দেহ, প্রতিশোধ আর সামাজিক অপমানের জেরেই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরকীয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হচ্ছে বেশির ভাগ পারিবারিক কলহ। কখনো স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করছে, আবার কোথাও স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে, কখনো পরকীয়া প্রেমিকার দ্বারা নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের সামনেই ঘটছে এসব সহিংসতা। অপরাধ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, পারিবারিক দূরত্ব এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এসব ঘটনার মাত্রা জটিল করে তুলছে। মোবাইল ফোনে গোপন যোগাযোগ কিংবা অনলাইন সম্পর্ক অনেক সময় বাস্তব জীবনের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই তৈরি হচ্ছে রাগ, হতাশা ও প্রতিশোধের মানসিকতা।পুশইনে বাড়ছে তিক্ততা - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌহার্দ ও সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে বিজেপি সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে তিক্ততা ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে কথিত ‘বাংলাদেশি’ হিসাবে এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে পুশইন করা হয়েছে। পরিচয় যাচাই করার জন্য আরও অন্তত ৯০ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করলেও নানা জটিলতায় তারা সেখানকার নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পাননি। অভিযোগ উঠেছে, এমন অনেককে ‘বাংলাদেশি’ হিসাবে সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ‘হোল্ডিং’ সেন্টারে রেখে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরো বিষয়টি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে নতুন করে বাধা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সীমান্তে নতুন করে তৈরি হবে অস্থিরতা। রাজস্ব বোর্ডের কর পরিকল্পনা নিয়ে দুশ্চিন্তা-সংশয়ে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা - দৈনিক বণিকবার্তার প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদ কর পুনঃপ্রবর্তন, বিভিন্ন কর অব্যাহতি ও রেয়াত সংকোচন, রফতানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর বৃদ্ধি এবং উৎসে কর ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এসব সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বড় ও নিয়মিত করদাতা উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, রাজস্ব আহরণের বড় ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত নতুন করদাতা খোঁজার পরিবর্তে বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত, সমালোচনার পাল্লা ভারী - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিনের মধ্যে শিক্ষা খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিগত পরিবর্তন এসেছে। স্কুলে আবার ভর্তি পরীক্ষা ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু, পাবলিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা, মাধ্যমিক স্তরে তিনটি নতুন বিষয় সংযোজন, পাঠ্যবই পরিমার্জন, ডিজিটাল নকল ঠেকাতে পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদায়ন সমালোচনাকে উস্কে দিয়েছে। বিতর্কিত অনেক সিদ্ধান্তে সমালোচনার পাল্লা ভারী। তবে সরকারের দাবি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে শিক্ষাবিদদের একাংশের মত, দ্রুত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাস্তবায়ন কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পর বিআরটির সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিআরটি প্রকল্প নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, বাস্তবায়ন হলে দিনে প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী বিশেষ বাসে যাতায়াত করতে পারবে। যানজট, সড়কপথের সংকেত (সিগন্যাল) কিংবা অন্য কোনো বাধায় বাস আটকে থাকবে না। ১৪ বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করার পর জানা গেল, এই উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার নয়; বরং যানজট ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তাই প্রকল্পটি এখন পুরোপুরি বাতিল করে দেয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকল্পটি সম্পর্কে এমন মত দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল। বুয়েটের চারজন বিশেষজ্ঞের এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক। তারা গত মাসে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছেন।
Go to News Site