Jagonews24
ময়মনসিংহের ফুলপুরে দীর্ঘদিনের দাবির পরও সরকারি উদ্যোগে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় কংশ নদীর ওপর নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ, কাঠ ও গাছের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেছেন গ্রামবাসী। প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সাঁকো এখন আট গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একটি সাঁকো নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের প্রতীক। উপজেলা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেতুটি নির্মাণে বহু বছর ধরে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রোববার (৩১ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটি দিয়ে নিশুনিয়াকান্দা, সেনেরচর, ঝিলকি, চাতুলিয়াকান্দা, চকেরকান্দা, পুটিয়া, ঘোনাপাড়া ও মালিঝিকান্দা গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করছেন। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতিও চলাচল করছে এই সাঁকো দিয়ে। সেনেরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বন্যাপ্রবণ নিচু এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা সবসময় অবহেলিত। পাকা রাস্তা ও স্থায়ী সেতুর অভাবে আমরা নানা দিক থেকে পিছিয়ে আছি। ঘোনাপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসীর অর্থায়নে সাঁকো নির্মাণের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। কৃষকরা এখন সহজে বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে পারছেন এবং ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। কৃষি সরঞ্জাম পরিবহনের খরচও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী এই সাঁকো আগামী দুই বছরের মধ্যে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত সরকারি উদ্যোগে সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, সরকারি অর্থায়নে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। হোসাইন সুলভ/এফএ/এমএস
Go to News Site