Collector
ছুটি শেষ হলেও থামেনি নীল জলের ছোঁয়ায় ঈদ উৎসব | Collector
ছুটি শেষ হলেও থামেনি নীল জলের ছোঁয়ায় ঈদ উৎসব
Somoy TV

ছুটি শেষ হলেও থামেনি নীল জলের ছোঁয়ায় ঈদ উৎসব

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্র সৈকতজুড়ে ভিন্ন এক ঈদ উৎসবের আবহ চলছে। স্বচ্ছ নীল জলের ছোঁয়ায় মানুষে-মানুষে একাকার রয়েছে গত ৫ দিনের সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ।ঈদের টানা ছুটি রোববার শেষ হলেও এ উৎসব যেন শেষ হচ্ছে না। পঞ্চম দিনে সোমবার (০১ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা মিলেছে মানুষ জটের এক ভিন্ন পরিবেশ। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সী গাল পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট এবং কলাতলী পয়েন্ট জুড়ে দেখা মিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নীল জলের টানে ছুটে আসা মানুষের ঢল।আনন্দ, হৈ-হুল্লোড় আর সাগরের নোনাজলে স্নানে মাতোয়ারা এসব মানুষ। ঈদের দিন থেকে আবহাওয়ায় কিছুটা উষ্ণতা থাকলেও রোববার ভোরের বৃষ্টিতে বদলে কক্সবাজারের পরিবেশ। তেমন গরমও না আবার ঠান্ডাও না। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে তীব্র গরম শুরু হলে প্রশান্তির খোঁজে নোনাজলের স্রোতে শরীর ভাসিয়ে উল্লাস করতে দেখা মিলেছে অসংখ্য পর্যটকের।শুধু সমুদ্রস্নানই নয়, সৈকতের বালিয়াড়ি, কিটকটে বসে সাগর উপভোগ, ঘোড়া বা বীচ বাইকে উঠে মুঠোফোনে ছবি ধারণ যেন এক প্রতিযোগিতায় মেতে ছিল এসব পর্যটক।আরও পড়ুন: পর্যটককে ছুরি দেখিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইচেষ্টা, বাঁচাল ট্যুরিস্ট পুলিশকক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে স্নানরত পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সী-সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো বলেন, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেড় লাখের বেশি পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত ছিল। যাদের বেশি ভাগই সমুদ্র স্নান করেছেন। ঈদুল আজহার দিন একটু কম উপস্থিতি হলেও পরদিন থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটকের দেখা মিলেছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফ গার্ড কর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের প্রথম ৫ দিন কম হলেও ৫ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমনে এসেছেন। আগামি আরও ৪-৫ দিন কম-বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন।তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্টের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং ছিল গত ৩ দিন।সোমবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়ানো পর্যটকদের একই কথা। সৈকতের পরিবেশ যান্ত্রিক জীবনের অবসান করে। তাই বার বার সৈকতে ছুটে আসা।ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সমুদ্র যেন এক মায়াবী বন্ধনের নাম। এখানে যতবার আসি- মন বড়ে যাই।’পর্যটক সিয়াম সিকাদার বলেন, শহরের ব্যস্ত জীবনে প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ খুব কম মেলে। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন তারা। সমুদ্রের গর্জন, শীতল বাতাস, মনোরম আবহাওয়া ও বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে তারা দারুণ আনন্দ উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারে এসে বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য নতুনভাবে অনুভব করা যায়।লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বরত কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াডের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), মোবাইল টিম ও স্ট্যান্ডবাই টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।আরও পড়ুন: ঈদের আনন্দে মুখর কক্সবাজার, সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ঢলকক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুর বলেন, পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতি আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, বিপণিবিতান ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের লেনদেন হচ্ছে। তার ধারণা, এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটন খাতকেন্দ্রিক ব্যবসার পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কক্ষভাড়া ও খাবারের মূল্য আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Go to News Site