Jagonews24
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলটির সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি তার পার্টিকে ভেঙে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ ও দলীয় কর্মীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগ এনেছেন তিনি। কালিঘাটের নিজস্ব বাসভবন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘এখানে মুসলিমরা অত্যাচারিত হচ্ছে, অনেক হিন্দুও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না, তারাও অত্যাচারিত।’ কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শুধু মুসলিমদের উৎসব দেখতে গিয়ে গরুর দুধের যারা ব্যবসা করে, তাদের বকরি ঈদের উৎসব করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আপনারা কি ভুলে গেছেন গ্রামগঞ্জের প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় গরু থাকে? আজ হাজার হাজার মানুষ যারা দুধ বিক্রি করে, দুধ থেকে ছানা বানায়, তারা তাদের জীবিকা হারাচ্ছে।’ আরও পড়ুন>>শাসকরাই খুনিতে পরিণত হয়েছে: মমতা ব্যানার্জীদল ছাড়তে চাওয়াদের নিয়ে যা বললেন মমতা ব্যানার্জীঅভিষেক ব্যানার্জীকে দেখে চোর-চোর স্লোগান, মারা হলো চড়-ঘুষি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘আমাদের আড়াই হাজার দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। অনেক মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঈদগাহ দখল করা হয়েছে। এমনকি মিশনারিদের ফান্ড বা তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দলীয় কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে।’ পশ্চিমবঙ্গকে কেন বারবার নিশানা করা হচ্ছে—সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গকেই কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করে আপনারা হারিয়েছেন। কাউন্টিং সেন্টারের ভেতরেও কারচুপি করা হয়েছে। এসআইআরের নাম করে আমাকে মারতে মারতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, অথচ তখন আমি ১৩ হাজার ভোটে জিতেছিলাম।’ নিজের ভাতিজা ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ‘অভিষেকের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে তা নজিরবিহীন। অথচ যারা তাকে বাঁচাতে গেল, পুলিশ তাদেরই গ্রেফতার করল! আর হামলাকারীদের সঙ্গে বিজেপির নেতাদের ছবি রয়েছে। যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছিল, মাথায় হেলমেট না থাকলে ঘটনাস্থলেই অভিষেকের মৃত্যু হতে পারত। এভাবে সন্ত্রাস করে কি সুনাম হচ্ছে? গোটা দেশে আজ ধিক্কার জানানো হচ্ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গোটা রাজ্যের ব্যবসার কি হাল হয়েছে দেখুন।’ এদিকে আগামী মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার রানি রাসমণি রোডে মমতা ব্যানার্জীর এক মহাধরনা কর্মসূচির কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন বা পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি স্টেজ বা মঞ্চ বানাতে না দেওয়া হয়, তবে আমি রাস্তার ওপর বসেই আন্দোলন করব।’ ডিডি/কেএএ/
Go to News Site