Jagonews24
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ফুটবল খেলায় আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। রেফারিরাও মানুষ। বাঁশি বাজানো বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরও ভুল হতে পারে। সেই ভুল শুধরে দেওয়ার জন্যই এলো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেম। যার ফলে ফুটবল মাঠে ভুল অনেক কমে গেলো। অনেক গোল হয়েও হয় না ভিএআরের কল্যাণে। আবার অনেক সিদ্ধান্ত বদলে গোলের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এবার সেই ভিএআরকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে। ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের আগে ভিএআরকে আরও শক্তিশালী করে আরও ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলতঃ কর্ণার কিক বা ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং অনেক সময় সেটা মারাত্মক লেভেলে চলে যায়। এ বিষয়টাকেই নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নিয়েছে আইএফএবি। এ কারণে, কর্নার বা ফ্রি-কিক নেওয়ার আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের করা স্পষ্ট ফাউলের ঘটনায় এখন থেকে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে বলে জানিয়েছে আইএফএবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বল খেলার মধ্যে আসার আগেই আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় যদি স্পষ্ট ফাউল করেন এবং সেটি সরাসরি গোল, পেনাল্টি বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তাহলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দিতে পারবে। এক বিবৃতিতে আইএফএবি জানায়, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্যবহারের জন্য ভিএআর প্রোটোকলে একটি ব্যাখ্যা অনুমোদন করেছে আইএফএবি। কর্নার কিক বা ফ্রি-কিকের সময় বল খেলার মধ্যে আসার আগেই আক্রমণকারী দলের স্পষ্ট অপরাধ যদি গোল, পেনাল্টি কিক বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যদি ঘটনাটি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে, তাহলে ভিএআর অন-ফিল্ড রিভিউয়ের সুপারিশ করবে। এরপর রেফারি যদি মনে করেন বল খেলার মধ্যে আসার আগে অপরাধ হয়েছে, তাহলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কর্নার বা ফ্রি-কিক পুনরায় নিতে হবে।’ ঘোষণার আগে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা ও রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কালিনা নতুন নিয়মের উদাহরণ হিসেবে মার্চে ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ের ১-১ ড্র হওয়া প্রীতি ম্যাচের একটি গোলের প্রসঙ্গ টানেন। কালিনার মতে, বেন হোয়াইটের গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। কারণ কর্নার নেওয়ার ঠিক আগে অ্যাডাম ওয়ার্টন স্পষ্টভাবে ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া হিমেনেজকে ব্লক করেছিলেন, যাতে তিনি বলের জন্য চ্যালেঞ্জ করতে না পারেন। কালিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই গোলটি দাঁড়াতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ অন্যায্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘বল খেলার মধ্যে আসার ঠিক আগে যদি ফাউল হয়, তাহলে সেটি নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।’ এর আগেই এই গ্রীষ্ম থেকে ভিএআরের ভূমিকা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন থেকে ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড দেখানো হলে, ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখালে এবং গোল কিকের বদলে ভুলভাবে কর্নার দিলে ভিএআর তা পর্যালোচনা করতে পারবে। এছাড়া খেলোয়াড়রা হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বললে রেফারি সেটিকে বন্ধুসুলভ আলাপ নয় বলে মনে করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন বলে জানিয়েছে ফিফা। তবে অ-সংঘাতমূলক পরিস্থিতিতে মুখ আড়াল করে কথা বললে শাস্তি দেওয়া হবে না। ম্যাচ চলাকালে ইচ্ছাকৃতভাবে ইনজুরিকে ব্যবহার করে খেলা থামানো এবং দলীয় আলোচনা করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বিগ্ন ফিফা। বিশেষ করে গোলরক্ষক পড়ে থাকার সময় পুরো দল বেঞ্চের কাছে গিয়ে কোচের সঙ্গে আলোচনা করছে- এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে চায় তারা। মার্চে বিষয়টি নিয়ে আইএফএবি আলোচনা করলেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে কালিনা জানান, বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮ দলের কোচদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় বিষয়টি তোলা হয়েছিল। যদিও এ নিয়ে রেফারিদের হাতে নির্দিষ্ট কোনো শাস্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, তারপরও কলিনা জানিয়েছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে “সক্রিয়” থাকবেন। তিনি বলেন, ‘গোলরক্ষক ইনজুরিতে পড়ে থাকলে আমরা দলগুলোকে বেঞ্চের দিকে যেতে দেব না। গোলরক্ষকের ইনজুরিতে পড়ার অধিকার আছে; কিন্তু অন্য খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে কোচদের সঙ্গে টাইম-আউট নেওয়ার অধিকার নেই।’ কালিনা আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা কোনো যৌথ সমাধানে পৌঁছাতে পারিনি। এ মৌসুমের জন্য আইএফএবি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভবিষ্যতে অবশ্যই কিছু করা হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের বলেছি- সতর্ক থাকুন, আমরা সব বুঝি। তাই আমরা অন্তত পুরো দলকে মাঠের বাইরে যেতে দেব না। অধিনায়ক ও কোচ আছেন, তাই এমন কিছু হলে রেফারিরা প্রস্তুত থাকবেন।’ আইএইচএস/
Go to News Site