Jagonews24
ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। সোমবার বাদ মাগরিব তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই বর্ষীয়ান নেতার জানাজায় অংশ নেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জানাজা শেষ হলে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখার উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়। এই সময় চারপাশে ঘিরে থাকা নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে রেখে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এই স্লোগান ধরে রাখেন। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মুখেও স্লোগান চলতে থাকলে, পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর আগে মরহুমের জানাজায় অংশ নিতে তাকওয়া মসজিদে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। জানাজা শুরুর আগে থেকেই মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। আরও পড়ুনতোফায়েল আহমেদ মারা গেছেনথামলো রাজপথ কাঁপানো সেই কণ্ঠস্বর জানাজায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান কাদের সিদ্দিকী, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের স্মৃতিচারণ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, তিনি একজন কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৬৯ থেকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে উনার অবদান অপরিসীম। সেই সময় বাংলাদেশের রাজনীতির যে টানাপোড়েন এবং রাজনীতির যে উত্থান-পতন, সেখানে উনি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিলেন। অত্যন্ত সাহসী ও নেতৃত্বশীল ব্যক্তি এবং অসাধারণ পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমি যখন প্রথমবার পার্লামেন্টে গিয়েছিলাম, আমরা ভালো বক্তব্য দিলে উনি এসে উৎসাহ দিতেন। উনার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। দলমত নির্বিশেষে সকলের উনাকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। জানাজা জাতীয় সংসদে হওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আজকের একটি জানাজা আমরা মনে করি জাতীয় সংসদে হওয়া উচিত ছিল। সরকার থেকে সে উদ্যোগটা নেওয়া উচিত ছিল। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এই ধরনের উদার দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। জাতি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হারালো। ধানমন্ডিতে প্রথম জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার তার মরদেহ ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ভোলা জেলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ভোলার দক্ষিণ গঙ্গাপুর এলাকার কোরালিয়া গ্রামে মায়ের কবরের পাশে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। এসইউজে/বিএ
Go to News Site