Somoy TV
খারাপ আবহাওয়ায় আলোক সংকটের কারণে প্রায়শই খেলা ব্যহত হয়। এইতো কিছুদিন আগে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজেই খারাপ আবহাওয়ার কারণে আলোক স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল। খারাপ আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হওয়া কমাতে এবার টেস্ট ক্রিকেটে লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহারের পরীক্ষামূলক অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।সোমবার (১ জুন) আইসিসির দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, গত সপ্তাহে ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের কমিটির (সিইসি) সভায় উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি রোববার (৩১ মে) আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় অনুমোদন পেয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উভয় দলের সম্মতি থাকলে প্রচলিত টেস্ট ম্যাচে প্রয়োজনে লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে এই সম্মতি সিরিজ শুরুর আগেই নিতে হবে। মূল উদ্দেশ্য হলো খারাপ আলোর কারণে খেলার সময় ও ওভার নষ্ট হওয়া কমানো।এছাড়া আইসিসি জানিয়েছে, ম্যাচ কর্মকর্তা ও ভেন্যুগুলোর জন্য উন্নত আলোক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা হবে, যাতে খারাপ আলোর কারণে খেলা বন্ধের ঘটনা কমানো যায়।আইসিসি বোর্ড আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। এখন থেকে ওয়ানডে ম্যাচে ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ বা তার মনোনীত স্টাফ মাঠে প্রবেশ করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এর আগে শুধুমাত্র বদলি খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশ করে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি ছিল। ওয়ানডে ইনিংসে সাধারণত এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুটি ড্রিংকস বিরতি নেওয়া হয়। আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে হাসান মাহমুদ, দল পেলেন মিরাজওটি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খেলাধুলার শর্তেও সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুই ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় ২০ মিনিট থেকে কমিয়ে ১৫ মিনিট করা হয়েছে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীতে আইসিসি জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন পর্যবেক্ষণের জন্য অন-ফিল্ড আম্পায়াররা এখন থেকে হক-আই প্রযুক্তির তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লেগ-সাইড ওয়াইড নির্ধারণে ব্যাটারের ডেলিভারির সময়কার অবস্থানকে ভিত্তি ধরার পরীক্ষামূলক নিয়মটি স্থায়ীভাবে চালু করা হয়েছে।এই বোর্ড সভায় আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য একটি বৈশ্বিক বাছাইপর্ব (গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার) চালুর সুপারিশ অনুমোদন করেছে। ১৬ দলের এই বাছাইপর্বের কাঠামো ও যোগ্যতা অর্জনের পথ চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইসিসি ব্যবস্থাপনাকে। এর ফলে সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) দেশগুলোর জন্য আবারও বিশ্বকাপে ওঠার বৈশ্বিক পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।নারী ক্রিকেটেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। ২০২৭ এর আইসিসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচি জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে এগিয়ে ১৪-২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া চলতি বছর থেকেই ১০ দল নিয়ে নতুন ওমেন্স ইমার্জিং নেশন্স ট্রফি চালু হবে, যেখানে পাঁচটি পূর্ণ সদস্য (ফুল মেম্বার) এবং পাঁচটি সহযোগী দেশ (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার) অংশ নেবে।নারীদের ২০২৮ এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্যও নতুন বাছাই পদ্ধতি অনুমোদন করা হয়েছে। ১০ দলের গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার থেকে ১২ দলের মূল আসরে দলগুলো জায়গা করে নেবে। এই বিশ্বকাপের আয়োজক হবে পাকিস্তান, তবে ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। আরও পড়ুন: বিসিবি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধি দলবাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসন নিয়েও আলোচনা করেছে আইসিসি। ড. মোহাম্মদ মুসাজি এবং ট্যাভেঙ্গওয়া মুকুহলানি বাংলাদেশ সফর করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।অন্যদিকে ইমরান খাজা এবং দেবজিৎ সাইকিয়া ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
Go to News Site