Somoy TV
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রফতানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে নগদ প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ উৎসে কর বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হতে পারে। প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রেখে এই কর বাড়ানোর মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। তবে বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্তকে রফতানিকারকরা ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন।বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে রিজার্ভ ধরে রেখে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাক খাত, পাটজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ প্রায় ৪৩টি রফতানি খাতে প্রণোদনা দিয়ে থাকে সরকার। এসব খাতে প্রণোদনার হার শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রফতানি প্রণোদনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা। এর ওপর বর্তমানে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দেন রফতানিকারকরা। এই অর্থের পরিমাণ অপরিবর্তিত রেখেই উৎসে কর দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। পোশাক রফতানিতে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ প্রণোদনা পান উদ্যোক্তারা। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করলে প্রণোদনা ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রফতানিকারকদের জন্য প্রণোদনা ২ শতাংশ এবং অপ্রচলিত বাজারে রফতানিতে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হয়। তবে এনবিআরের এ কর বাড়ানোর পরিকল্পনাকে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন রফতানিকারকরা। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, মূল কারখানা একবার উৎসে কর দিচ্ছে, আবার যারা প্রক্রিয়াজাত করে সেখানেও ট্যাক্সেশন হচ্ছে, এটা ডাবল ট্যাক্সেশন। এটি যেন না হয় সে বিষয়ে এনবিআর আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রণোদনার অর্থ আট-নয় মাস ধরে বকেয়া থাকে, সেটি নিয়মিত করার উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। আরও পড়ুন: সনদের অভাবে আটকে ১২ বিলিয়ন ডলারের চামড়া রফতানির সম্ভাবনা বিজিএমইএর সহ-সভাপতি রোমান মিয়া বলেন, গত এক বছরে ৩৫০ থেকে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকিং সুবিধা না পাওয়াই এর বড় কারণ। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বৃহৎ রফতানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেয়া হয়। পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রণোদনা ৩ থেকে ১০ শতাংশ। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাণিজ্যে বাধা দূর না করে প্রণোদনার অর্থের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যবসা সহায়ক নয়। বিটিএর সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ৬ শতাংশ প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হতো। এখন যদি তা ২০ শতাংশ করা হয়, তাহলে প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা উচিত। সরকারি কোষাগারে থাকা প্রণোদনার অর্থের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার খাতে নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রণোদনার অর্থ সরকারকে বাজেট থেকে দিতে হয়। সেই অর্থ আহরণে সরকারের সক্ষমতা আছে কি না, এবং কোথায় ট্রেড-অফ হবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১০ শতাংশ প্রণোদনা আগেই রয়েছে, সেটি বাড়িয়ে সরকার রাজস্ব আহরণ থেকে কীভাবে সামলাবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নতুন অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
Go to News Site