Somoy TV
তিন বছর ধরে ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। সরকার ও প্রশাসনের তৎপরতায় জানা গেছে, হাসপাতালটিতে মানা হয়নি বিল্ডিং কোড ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দেয়া হতো চিকিৎসা সেবা। আদ-দ্বীন ট্র্যাজেডির পর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্নের মুখে এখন রাজধানীর বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল।সরু গলিতে কয়েকটি ভবন জোড়া দিয়ে গড়ে ওঠা রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এই হাসপাতালের পরিচিতি কম খরচে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসা সেবার জন্য। কিন্তু গত ২৮ মে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে পর পর ৬ নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদফতর গঠন করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। পরে যুক্ত করা হয় আরও তিন সদস্যকে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের পুরানো ভবনে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড স্থাপন, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) বন্ধ রাখা আর অনুমোদনহীন বেকারির স্থাপনাসহ বেশকিছু অনিয়ম পেয়েছে এই তদন্ত কমিটি। ২০১৯ সালে আদ-দ্বীন হাসপাতাল ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাবদ্ধ করে ফায়ার সার্ভিস। আর তিন বছর ধরে ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছে হাসপাতালটি। আছে বিল্ডিং কোড না মানার অভিযোগ। লাইসেন্স নবায়নের শর্তে বলা আছে-পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এসি লাগালেও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুরনো ভবনে স্থাপন করা যাবে না পোস্ট অপরারেটিভ ওয়ার্ড। এসব হাসপাতালের লাইসেন্স দেয়ায় দুর্ঘটনার দায় স্বাস্থ্য অধিদফতরেরও বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব। আরও পড়ুন: আদ-দ্বীনের ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শ নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিনি বলেন, ‘ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় এসি বন্ধ হয়ে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। যেহেতু ভেন্টিলেশন নেই সেক্ষেত্রে সেই রুম থেকেও গ্যাস তৈরি হতে পারে। শিশুদের মলমূত্র থেকে গ্যাস জমতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে বের করতে হবে।’ এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এসি লাগালে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুরনো ভবনে কখনোই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড স্থাপন করা যায় না। এ ক্ষেত্রে যারা হাসপাতালে লাইসেন্স দিয়েছে বা নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন করেছে সেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দায় রয়েছে। দায় রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও। উভয়পক্ষকেই দায় নিতে হবে।’ আবাসিক ভবনে বা ভাড়া ভবনে কখোনোই হাসপাতাল হতে পারে না উল্লেখ করে রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দেশে কুটির শিল্পের মতো গড়ে উঠেছে হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে নজরদারি মধ্যে আনতে হবে। না হলে আরো বড় ঘটনা ঘটতে পারে। যারা এগুলোর লাইসেন্স দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’ আদ-দ্বীন ট্র্যাজেডির পর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজধানীর অন্য বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধেও। আরও পড়ুন: আদ-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘কোন রুমগুলোতে কী ধরনের এয়ার কোয়ালিটি থাকবে সেটা আমাদের বিল্ডিং কোডিং রয়েছে। কিন্তু সেটা নিয়মিত তদারকিটা হচ্ছে না। তদারকিটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও কিন্তু টাইম টু টাইম এটার মনিটরিংটা দরকার। সে মনিটরিংটা অনেক সময় হয় না আবার অনেক সময় দেখা যায় যে দুর্বল হাসপাতালগুলো বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। সার্টিফিকেশন যদি ঠিক থাকে এবং স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় যদি একসঙ্গে কাজ করে তাহলে আমাদের জীবন নিরাপদ হয়ে যাওয়ার কথা। এদিকে সরকারের খেয়াল রাখা দরকার।’ হাসপাতালের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে সর্বোচ্চ নজরদারির আওতায় আনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
Go to News Site