Somoy TV
ইউক্রেনজুড়ে ধ্বংসাত্মক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে চালানো আকস্মিক এই হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ খবর জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।হামলার আগে মস্কো সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে, নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও। হামলার পর আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে এবং কিয়েভের বাসিন্দারা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রাজধানীতে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে ছুটে যেতে বাধ্য হন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দেনিপ্রোতে ১১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৭ জন। তিনি আরও বলেন, শহরের প্রায় ৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ঘরবাড়ি, পুড়ে যাওয়া গাড়ি এবং একটি শিশুদের খেলার মাঠের ক্ষয়ক্ষতির ছবি তিনি প্রকাশ করেন। আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ‘বড় হামলা’ চালাতে পারে রাশিয়া, শঙ্কা জেলেনস্কির ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, দেনিপ্রোতে নিহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও ছিলেন। হামলাটি সম্ভবত ‘ডাবল-ট্যাপ’ ধরনের ছিল, অর্থাৎ প্রথম হামলার পর উদ্ধার তৎপরতা চলাকালে দ্বিতীয় দফায় আঘাত হানা হয়। হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, রাতভর ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া ৬৫০টিরও বেশি ড্রোন এবং ৭০টির বেশি ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তিনি জানান, দেনিপ্রোর একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। ভবনের একটি অংশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় পরিসরের হামলা এবং রাশিয়ার কাছ থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বার্তা—ইউক্রেন যদি ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে এ ধরনের হামলা চলতেই থাকবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা একেবারেই প্রয়োজন। আরও পড়ুন: রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে সমুদ্রেও কঠোর হচ্ছে ইউরোপ! কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৬৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। শহরের একাধিক বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন লাগে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের সাবওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেয়। কেউ কেউ সঙ্গে করে জিনিসপত্র ও ম্যাট্রেস নিয়ে আসে, আর আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে।
Go to News Site