Jagonews24
জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। চ্যাটবটের নিরাপত্তা ত্রুটি এবং ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো অঙ্গরাজ্য হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপ নিল ফ্লোরিডা। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যান কেবল মুনাফার পেছনে ছুটছেন। তাদের তৈরি প্রযুক্তি শিশুদের বিপদে ফেলছে ও আসক্ত করছে, ম্যাস-শুটারদের (নির্বিচারে গুলি চালানো ব্যক্তি) সাহায্য করছে এবং ব্যবহারকারীদের আত্মহত্যার প্ররোচনা দিচ্ছে। ফ্লোরিডার এই দেওয়ানি মামলায় স্যাম অল্টম্যানকে তার ‘বেপরোয়া ও ইচ্ছাকৃত আচরণের’ জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অল্টম্যানের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কারণে মানুষের জীবন যেভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তার প্রতি তিনি সম্পূর্ণ উদাসীনতা দেখিয়েছেন। আরও পড়ুন>>চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে কি হত্যা মামলা হতে পারে?চ্যাটজিপিটি যেসব প্রশ্নের উত্তর দেয় নাএবার গাড়ির ড্যাশবোর্ডে যুক্ত হলো চ্যাটজিপিটি ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক ও অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা, অবহেলা, পণ্যের দায়বদ্ধতা আইন লঙ্ঘন এবং জনউপদ্রব সৃষ্টির মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। গত বছর ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় দুজন নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডে চ্যাটজিপিটির কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে ফ্লোরিডা পুলিশ একটি ফৌজদারি তদন্তও চালাচ্ছে। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি মানবদেহ কীভাবে গুম করা যায়, সে বিষয়ে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেছিলেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার বলেন, স্যাম অল্টম্যান এবং চ্যাটজিপিটি আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে এআই প্রতিযোগিতাকে বেছে নিয়েছে। তারা জননিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে বড় করে দেখেছে এবং ফ্লোরিডা তা বরদাশত করবে না। আমরা তাদের জবাবদিহির আওতায় আনব। যা বলছে ওপেনএআই এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার জন্য তারা শুরু থেকেই কাজ করছে এবং এআই প্রযুক্তিতে ‘ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে সেরা’ সুরক্ষানীতি চালু রেখেছে। ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, সন্তান হারানো একটি পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। আমরা জানি কোনো শব্দই এই কষ্টের উপশম করতে পারবে না। নাবালকদের সুরক্ষার জন্য আমরা প্রোডাক্টের ভেতরেই বয়স সনাক্তকরণ টুল এবং অভিভাবকদের জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা রেখেছি। আমরা জানি এই কাজগুলো কোনো সন্তানকে ফিরিয়ে দেবে না, তবে আমরা এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিখুঁত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্বজুড়ে মামলার মুখে চ্যাটজিপিটি ওপেনএআই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি মামলার মুখোমুখি হচ্ছে। বেশ কিছু মামলায় দাবি করা হয়েছে যে, চ্যাটজিপিটি মূলত ‘সুইসাইড কোচ’ বা আত্মহত্যার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে এবং ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকারক বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে কানাডার টাম্বলার রিজে ঘটে যাওয়া বন্দুক হামলার ঘটনায় কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবারও ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ওই ঘটনার সন্দেহভাজন ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ‘সমস্যাজনক ব্যবহারের’ কারণে ওপেনএআই নিষিদ্ধ করলেও তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায়নি। পরে অবশ্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য ক্ষমা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আইনি বেড়াজালে অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টরাও শুধু ওপেনএআই নয়, ফ্লোরিডার এক ব্যক্তি গুগলের বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন। তার দাবি, গুগলের এআই পণ্যের কারণে বিভ্রান্ত হয়ে তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। পাশাপাশি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, স্ন্যাপ ইনক, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মামলার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তিময় করে তৈরি করেছে। সূত্র: বিবিসিকেএএ/
Go to News Site