Jagonews24
ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে ভ্রমণপিপাসু মানুষ। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে নিজেকে একটু প্রকৃতির সান্যিধ্যে নিয়ে যেতে লোকজন এখানে যাচ্ছে। খৈয়াছড়া ঝরনায় রাস্তায় মানুষের ঢল। সকলের গন্তব্য ঝরনা। দলবেধে সবাই ছুটে যাচ্ছে ঝরনাতে। আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে বেশ বড় খৈয়াছড়া ঝরনা। এর মোট ৮টি মূল ধাপ ও অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ আছে। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ। চার বন্ধুকে নিয়ে ঝরনায় ঘুরতে আসা ফখরুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটি পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসলাম। ঝরনায় পানি খুব বেশি না থাকলেও অনেক আনন্দ করেছি। তবে টিকেটের দাম ১০ টাকা বেশি রাখছে। আগে টিকেটের মূল্য ২০ টাকা ছিল, এখন ৩০ টাকা নিচ্ছে। ফেনীর পরশুরাম থেকে ঘুরতে আসা কলেজ ছাত্র মাসুদ রানা বলেন, আমি প্রথমবার খৈয়াছড়া ঝরনা বেড়াতে এসেছি। খুব সুন্দর একটি ঝরনা। এতোদিন শুধু নাম শুনেছি, প্রথমবার এসে খুব ভালো আগছে। তবে ঝরনায় যাওয়ার পথ কিছুটা কষ্টের। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মুরশিদুল আলম বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এলাম। তবে বাচ্চাদের আসা-যাওয়ায় একটু কষ্ট হয়েছে। তবে সুন্দর ঝরনা, বর্ষা মৌসুমের তুলনায় পানি খুব কম। খৈয়াছরা ঝরনা সড়কের পাশের দোকানি আবু তাহের বলেন, রমজানের ঈদের পর প্রায় দুই মাস তেমন পর্যন্ত পর্যটক হয়নি। কোরবানির ঈদের পরদিন থেকে অনেক পর্যটক এসেছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের ৫টি ঝরনা ইজারা পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আর এন্টারপ্রাইজের পরিচালক (খৈয়াছরা ঝরনা) গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন খরা থাকার পর কোরবানির ঈদের পরদিন থেকে মোটামুটি পর্যটক হচ্ছে। আমরা ঝরনার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে সচেতনতামূলক ব্যানার পেস্টুন টাঙানো হয়েছে। এছাড়া টিকেট নেওয়ার সময় কাউন্টারে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়া সব পর্যটককে গাইড নিয়ে ঝরনায় যেতে অনুরোধ করছি। কীভাবে যাবেন খৈয়াছরা ঝরনায় দেশের যেকোন স্থান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌরসদর পার হয়ে বড়তাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নামতে হবে। এরপর খৈয়াছড়া ঝরনা রাস্তার মাথায় সিএনজি চালিত অটোরিকসা রয়েছে। সেখান থেকে রিজার্ভ ও লোকাল যাওয়া যাবে। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি নিয়েও পাহাড়ের পাদদেশে যাওয়া যাবে। এম মাঈন উদ্দিন/এনএইচআর/জেআইএম
Go to News Site