Collector
মা-বাবার পাশে চিরঘুমে তোফায়েল আহমেদ | Collector
মা-বাবার পাশে চিরঘুমে তোফায়েল আহমেদ
Somoy TV

মা-বাবার পাশে চিরঘুমে তোফায়েল আহমেদ

লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ। শায়িত হলেন জন্মস্থান কোড়ালিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে কোড়ালিয়ার যেই কাদামাটি গায়ে মুখে জাতীয় নেতা হয়েছেন, সেই কোড়ালিয়েই শেষ ঠিকানা হলো বর্ষিয়ান এ রাজনীতিকের।ঢাকা থেকে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় তোফায়েল আহমেদের মরদেহ নিয়ে হেলিকপ্টার ভোলা হেলিপ্যাডে আসে। সেখানে আগে থেকেই তার অনুসারী ও আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। লাশবাহী হেলিকপ্টার থেকে নেমেই উপস্থিত স্বজনদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তোফায়েল কন্যা ডা. তাসলিমা জামান মুন্নি। সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে নিজ জন্মভূমিতে এভাবে অনেকবার হেলিকপ্টারে ভোলায় এসেছেন তোফায়েল আহমেদ। তবে এবারের আসা একেবারে ভিন্ন। বাংলার রাজপুত্র তোফায়েলের এই শেষ আসা। হেলিকপ্টার থেকে কফিন নামিয়ে তোলা হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে। সামনে পুলিশের গাড়ির সঙ্গে কর্মীদের মোটরবহর নিয়ে যায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে।ভোলা সরকারি স্কুলের এক সময়ের তুখোড় ছাত্র ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এ প্রাঙ্গণ থেকেই রাজনীতি শুরু। আজ সেই স্কুলের মাঠেই শেষ বিদায়ের জানাজা। মাঠভর্তি হাজারো মানুষ সবাই শোকে স্তব্ধ। দুপুরে কাঠফাটা রোদে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সেখানে দ্বিতীয় জানাজা (ভোলায় প্রথম) অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে জানানো হয় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের চৌকস দল গার্ড অব অর্নার জানায়। এসময় সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর ও মরহুমের মেয়ের জামাই ডা. তোহিদুজ্জামান তুহিন। গোলাম নবী আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং রুহের শান্তি কামনা করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষে সবার দোয়া চেয়েছেন জামাতা ডা. তুহিন। জানাজায় অংশ নেয়া তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন-শুভানুধ্যায়ী তুলে ধরেন অনেক স্মৃতি।তোফায়েল আহমেদের ভাগনে আশরাফুজ্জামান রাজিব জানান, তাদের পরিবারের মাথার ওপর থাকা বটবৃক্ষটি চলে গেছেন। যা অপূরণীয়। শুধু আমরা এতিম হইনি অভিভাবক হারা হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।আরও পড়ুন: তোফায়েলের প্রথম জানাজা ধানমন্ডিতে, দাফন মায়ের কবরের পাশেভোলা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ছালাউদ্দিন লিংকন বলেন, ‘জাতীয় নেতার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষতি হয় হয়েছে। তিনি বড় দুর্দিনে চলে গেছেন।’ তোফায়েল আহমেদে প্রতিবেশী ও বাল্যবন্ধু সৈয়দ আহম্মদ বলেন, ‘কোড়ালিয়ার সূর্য সন্তান ছিলেন তোফায়েল। যা বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক দুনিয়া ভোলাকে পরিচিত করেছেন। তার চলে যাওয়ার মধ্যদিয়ে অনেক ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটেছে।’সংস্কৃতিকর্মী মনির উদ্দিন জানান, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজে ইতিহাস তৈরি করেছে। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল জনগণের পক্ষে। তিনি অনেক ইতিহাস সৃষ্টি করে নিজেই আজ ইতিহাস হয়ে গেছেন।’জানাজা শেষে প্রবীণ এই রাজনীতিকের মরদেহ নেয়া হয় তার জন্মস্থান সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদীর কোড়ালিয়া গ্রামের বাড়িতে। সেখানে তৃতীয় জানাজায় অংশ নেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও আওযামী লীগের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন রাজনীতির আকাশের উজ্জল নক্ষত্র তোফায়েল আহমেদ।কমিউনিষ্ট পার্টির ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ বলেন, তোফায়েল আহমেদ জাতীয় নেতা। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি ভোলায় অনেক কিছু করলেও অনেকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি বলে জানান মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী।এদিকে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় আসার খবরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে যুবদল, শ্রমিকদল ও ছাত্রদলের ব্যানারে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলকারীরা আওয়ামী লীগ বিরোধী স্লোগানে দেয়। তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোর ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬ দশকে রাজনীতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে গত ১ জুন বিকেলে তিনি অনন্তকালের যাত্রী হন।

Go to News Site