Collector
স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপের মধ্য দিয়ে শেষ জাইকা সিবিএনএস-২ প্রকল্প | Collector
স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপের মধ্য দিয়ে শেষ জাইকা সিবিএনএস-২ প্রকল্প
Jagonews24

স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপের মধ্য দিয়ে শেষ জাইকা সিবিএনএস-২ প্রকল্প

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব নার্সিং সার্ভিসেস ফেইজ-২ (সিবিএনএস-২)’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর সিআইআরডিএপি’র এটিএম শামসুল হক অডিটোরিয়ামে স্টেকহোল্ডার কর্মশালার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের মার্চে শুরু হওয়া চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরই মধ্যে ৫৩৬ জন প্রশিক্ষিত নার্সিং শিক্ষক ও একটি অনুসরণযোগ্য মডেল গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়ার্কশপে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ), সরকারি নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরা হয় এবং প্রকল্প-পরবর্তী সময়ে কার্যক্রমগুলো টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি ‘সিবিএনএস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়, যা নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার ধারাবাহিক উন্নয়নে একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মডেলটিতে ক্যাসকেড প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা, নার্সিং কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মডেলটি ভবিষ্যতে দেশের নার্সিং খাতের উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিবিএনএস-২ প্রকল্পে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা উন্নয়ন, ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার ও ৪৭২ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক তৈরি, শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি, নার্সিং ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, প্রকল্পের আওতায় চারটি নার্সিং কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও আটটি সরকারি নার্সিং কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে কাজ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মরিকাওয়া ইয়ুকো বলেন, ‘আজকের ওয়ার্কশপের উদ্দেশ্য কেবল এই প্রকল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরা নয়। বরং ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া ও বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন করা যায় এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কেমন ভূমিকা রাখতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। সিবিএনএস-২ সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ায়, ব্যক্তিগতভাবে এর ভবিষ্যত সাফল্য নিয়েও আমি আশাবাদী।’ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার উন্নয়ন দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত। সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জনগুলো দেশের নার্সিং কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় বাস্তবায়ন করা হলে তা বৃহত্তর কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আমার বিশ্বাস।’ আলোচনাকালে, অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের দক্ষতা কাজে লাগানো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা ও কার্যক্রমগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারের ক্ষেত্রে মতামত জানান। নার্সিং খাতের উন্নয়নে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সিবিএনএস মডেল ও সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে দেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল সেবার মানোন্নয়ন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ওয়ার্কশপ শেষ হয়। ইএইচটি/এমএমকে

Go to News Site