Collector
সৈকতের বালিয়াড়ি বস্তিমুক্ত করতে নতুন নিদের্শনা: ঝুপড়ি দোকানের অনুমতি বাতিল | Collector
সৈকতের বালিয়াড়ি বস্তিমুক্ত করতে নতুন নিদের্শনা: ঝুপড়ি দোকানের অনুমতি বাতিল
Somoy TV

সৈকতের বালিয়াড়ি বস্তিমুক্ত করতে নতুন নিদের্শনা: ঝুপড়ি দোকানের অনুমতি বাতিল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে দোকান বসানোর জন্য ইস্যুকৃত সব সাময়িক কার্ড বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। এ সময় নতুন করে আর কোনো অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ইস্যু ও নবায়নকৃত সব কার্ড ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আর নবায়ন করা হবে না বলে জানানো হয়। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে একের পর এক ঝুপড়ি দোকান স্থাপন করে বস্তিতে রূপ নেয়া ঠকাতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয়েছে।ওই আদেশে বলা হয়, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন কোনো সাময়িক কার্ড ইস্যু করা হবে না। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ইস্যু ও নবায়নকৃত সব কার্ড ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আর নবায়ন করা হবে না। কার্ডধারীরা নির্ধারিত শর্তাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এবং পরিবেশ অধিদফতরের সুপারিশের আলোকে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।আরও পড়ুন: কক্সবাজার সৈকতে উচ্ছেদ হওয়া জায়গা যেন পুনর্দখল না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীএর আগে গত মার্চ মাসে কক্সবাজার সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পর সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১২ মার্চ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। চার দিনের অভিযানে সহস্রাধিক অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে বালিয়াড়িকে দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে উচ্ছেদের তিন মাস না পেরোতেই আবারও বালিয়াড়িতে ফিরে আসে ঝুপড়ি দোকান। সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে অবৈধ দখলের অভিযোগ ওঠে।সরেজমিনে দেখা গেছে, সুগন্ধা পয়েন্টের প্রবেশমুখের দুই পাশের বালিয়াড়িতে শত শত দোকান বসানো হয়েছে। ত্রিপল, ভ্যানগাড়ি ও বাঁশের কাঠামো দিয়ে তৈরি এসব ঝুপড়ি দোকানে বিক্রি হচ্ছে শামুক-ঝিনুক, আচার, চা, পান ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী। দোকানগুলো বালিয়াড়ির স্বাভাবিক চলাচলের পথও সংকুচিত করে ফেলেছে।কয়েকজন দোকান মালিক বলেন, ‘উচ্ছেদের পর তাদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল শত শত পরিবার জীবিকার সংকটে পড়েছে। ফলে তারা আবারও দোকান বসাতে বাধ্য হয়েছেন।’শুধু সুগন্ধা পয়েন্ট নয়, কলাতলী এলাকার বিভিন্ন বালিয়াড়ি এবং প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সাগরলতা ঘিরেও দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সৈকতের কলাতলী সংলগ্ন সড়কের দুই পাশেও কাঁচাবাজার বসানোর তথ্যও পাওয়া যায়।আরও পড়ুন: কক্সবাজার সৈকতে উচ্ছেদ অভিযান জোরদার, সব স্থাপনা সরানোর ঘোষণাএ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বহু বছর ধরে বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও তা স্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সৈকত আবার প্রকৃত রূপে ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় দখল হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বালিয়াড়িকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘পর্যটন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন রিটের জবাব দাখিল করবে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’প্রসঙ্গত, কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা ১৯৯৯ সালে সরকার প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সৈকতের জোয়ার-ভাটার সীমা থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ।তবে পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৈকতের বালিয়াড়ি বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। তাদের মতে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া বালিয়াড়িকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে না।

Go to News Site