Somoy TV
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনীহার কারণে ধীরগতিতে এগোচ্ছে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে টার্মিনাল প্রকল্প। কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফার আশায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবির দিকেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অথচ বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়িতে অন্তত ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে আছে।বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং লালদিয়া টার্মিনালকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের বাণিজ্যের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হয়। তবে একের পর এক জটিলতায় আটকে আছে এই তিনটি মেগা প্রকল্প। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এসব বন্দরে দৃশ্যমান অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এমনকি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত রূপও পায়নি অনেক উদ্যোগ। বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বলেন, নতুন বন্দর মানেই নতুন দক্ষতা এবং আরও কার্যকর সেবা। এটি দেশের জন্য একটি বড় সুবিধা। ১৭ হাজার ৫২৫ কোটি টাকার বে টার্মিনাল প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে। বাকি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা দেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। অর্থায়ন নিশ্চিত হলেও কক্সবাজারের মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে ৫০ একর জমির ওপর টার্মিনাল নির্মাণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে বিশ্বখ্যাত শিপিং প্রতিষ্ঠান মার্কস লাইনের এপি মুলার। আরও পড়ুন: প্রণোদনার ওপর উৎসে কর দ্বিগুণের পরিকল্পনা, রফতানিকারকদের উদ্বেগ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, বে টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় ফিজিবিলিটি স্টাডির অংশ হিসেবে টুডি সিমুলেশন সম্পন্ন হয়েছে। এখন তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের বিভিন্ন ছাড়পত্র, নকশা ও ডিজাইন সংক্রান্ত কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। অথচ কয়েক বছর ধরেই বে টার্মিনালে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি ও দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। একইভাবে মাতারবাড়ি প্রকল্পেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মো. জাফর আলম বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী বিকল্প পথে হাঁটছেন। তারা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। অর্থাৎ কম বিনিয়োগে প্রস্তুত অবকাঠামো ব্যবহার করে বেশি লাভের চিন্তা করছেন। কিন্তু দেশের প্রয়োজন নতুন বন্দর ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণ। বে টার্মিনাল, লালদিয়া এবং মাতারবাড়ির মতো প্রকল্পে বিনিয়োগ আসা উচিত। এটিই প্রকৃত অর্থে ‘গ্রিনফিল্ড’ বিনিয়োগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে লালদিয়ার চরের এপি মোলার টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার কথা। একই সময়ে মাতারবাড়ি ও বে টার্মিনালের কার্যক্রমও শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাজের ধীরগতির কারণে এ দুই মেগা প্রকল্পের সময়সীমা আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বে টার্মিনাল, মহেশখালীর মাতারবাড়ি, পতেঙ্গা ও লালদিয়ার চরে ৬ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগে সব জটিলতা কাটিয়ে বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Go to News Site