Collector
সাকিবের পর এবার ইংলিশ কাউন্টিতে নাম লেখাচ্ছেন হাসান মাহমুদ | Collector
সাকিবের পর এবার ইংলিশ কাউন্টিতে নাম লেখাচ্ছেন হাসান মাহমুদ
Somoy TV

সাকিবের পর এবার ইংলিশ কাউন্টিতে নাম লেখাচ্ছেন হাসান মাহমুদ

চলতি মৌসুমে ইংলিশ কাউন্টি দল কেন্টে যোগ দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। মঙ্গলবার (২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাসানের এজেন্ট ইহসান সাইয়েদ-হুসেইন ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, ডানহাতি এই পেসার ১২ জুন থেকে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।এর আগে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাআন উরচেস্টারশায়ার ও সারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন।গত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) টেনিস এলবোর চোটে পড়ার পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন হাসান। এ সময়ে তিনি ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ মিস করেন। পরে তিনি ইংল্যান্ডে গিয়ে কেন্টের প্রধান কোচ অ্যাডাম হলিওকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করেন।ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ইহসান সাইয়েদ-হুসেইন হাসান ও কেন্টের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।ইহসান বলেন, ‘পরিকল্পনা হলো ১২ জুন ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া। সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা আশা করছি এর আগেই ভিসার কাজ সম্পন্ন হবে। যদি না হয়, তাহলে ১৮ জুন মিডলসেক্সের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচেই তার অভিষেক হবে। তবে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা হলো ১২ জুন।’আরও পড়ুন: দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়াতিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে এটি হঠাৎ করে হওয়া কোনো চুক্তি নয়। হাসান যখন ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়েছিল, তখন থেকেই আমি এই পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করতে শুরু করি। কেন্টের ব্যবস্থাপনা ও অধিনায়কের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাদের বলেছিলাম, “বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ নামে একজন বোলার খেলছে। সে দারুণ করছে, আর কাউন্টি ক্রিকেটে খেললে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে।”’‘এরপর থেকেই তারা তাকে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। ২০২৫ মৌসুমেই তারা তাকে নিতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু তখন শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণে তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও আমরা কেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলাম এবং তাদের জানিয়েছিলাম যে আগ্রহ দুই পক্ষেরই রয়েছে।’ইহসান আরও বলেন, ‘চলতি মৌসুমের শুরুতেই তারা আবারও প্রবল আগ্রহ দেখায়। কোচ ও ব্যবস্থাপনা আমাদের মৌখিকভাবে জানায় যে তারা এ বছর হাসানকে দলে চায়। তবে দুটি বড় বাধা ছিল। প্রথমত, হাসানের প্রাপ্যতার সময়সূচি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের ক্রিকেট সূচি অনেক সময় শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। দ্বিতীয়ত, তখন কেন্টের বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা পূর্ণ ছিল।’তিনি যোগ করেন, ‘এরপর পরিস্থিতি বদলে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসান টেনিস এলবোতে আক্রান্ত হয় এবং পুনর্বাসনের জন্য ইংল্যান্ডে আসে। তখন আমি আবার কেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এর আগে তারা তাকে নেওয়ার ব্যাপারে মৌখিক সম্মতি দিয়েছিল, কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। হাসান যুক্তরাজ্যে আসার পর আমি কেন্টকে বলি, “হাসান এখানে চোট থেকে সেরে উঠছে এবং পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাকে বোলিং করতে হবে। সে কি আপনাদের সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারে?”’এইভাবেই ধীরে ধীরে আলোচনার অগ্রগতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত কেন্টের হয়ে খেলার পথ তৈরি হয় বাংলাদেশের উদীয়মান এই পেসারের জন্য। তিনি বলেন, ‘তারা সঙ্গে সঙ্গেই বলেছিল, “অবশ্যই! আমরা তো যেকোনোভাবেই তাকে দলে নিতে চাই। তাই সে আমাদের সুবিধাগুলো ব্যবহার করে এখানে অনুশীলন করলে আমরা খুবই খুশি হব।”এই কারণেই হাসান সেখানে বোলিং করছিল। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ট্রায়াল ছিল না; সে শুধু চোট থেকে পুনর্বাসনের কাজ করছিল। তবে সে যখন সেখানে বোলিং করছিল, তখন কেন্টের কর্মকর্তারা তাকে সরাসরি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। কাকতালীয়ভাবে ঠিক সেই সময়েই কেন্টের বিদেশি খেলোয়াড়দের একটি জায়গা খালি হয়ে যায়।’‘ঠিক কোন খেলোয়াড় চলে গিয়েছিল তা আমি নিশ্চিত নই, কারণ তাদের দলে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়সহ তিন-চারজন বিদেশি ক্রিকেটার রোটেশনে ছিল। তবে একটি জায়গা খালি হয়েছিল। এরপর কেন্ট আমাদের জানায়, “দেখুন, এখন বিষয়টি বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তার সঠিক প্রাপ্যতার সময়সূচি কেমন?”’ আরও পড়ুন: ইউরোপ সফরে টানা দুই হারের পর জয় পেল বাংলাদেশইহসান আরও বলেন, ‘আমরা ক্যালেন্ডার দেখে বুঝলাম, দারুণ একটি সুযোগ রয়েছে। সে জুনে দুটি ম্যাচ খেলতে পারবে এবং সেপ্টেম্বরে ফিরে এসে আরও চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে। কেন্ট সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যায়। সবকিছু নিখুঁতভাবে মিলে যায়। এখন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সবকিছু চূড়ান্ত। শুধু ভিসার অপেক্ষা। ভিসা হয়ে গেলেই সে ইংল্যান্ডে যাবে, জুনের ম্যাচগুলো খেলবে এবং চুক্তির দায়িত্ব পালন করবে।’কেন্টের সঙ্গে চুক্তির আগে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও ডাক পেয়েছেন হাসান। ফলে জুনে কেন্টের হয়ে খেলার পর নির্বাচকরা ডাকলে জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য জাতীয় দলে যোগ দিবেন তিনি। এরপর শ্রীলঙ্কায় গিয়ে কলম্বো ক্যাপসের হয়ে এলপিএলে অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য আবারও জাতীয় দলে যোগ দিবেন হাসান।এজেন্ট আরও জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডে ফিরে কেন্টের হয়ে বাকি কাউন্টি ম্যাচগুলো খেলবেন হাসান। শুধু আগস্ট মাসের ম্যাচগুলোই তিনি করবে। তবে কেন্ট এ নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে আছে, কারণ তারা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ব্যাপারে জানত।এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, জাতীয় দলের দায়বদ্ধতার সঙ্গে সংঘর্ষ না হলে হাসানের কাউন্টি ক্রিকেট খেলা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহরিয়ার নাফীস ক্রিকবাজকে বলেন, ‘জাতীয় দলের দায়বদ্ধতায় কোনো প্রভাব না পড়লে আমরা হাসান কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিকেটারের এমন সুযোগকে সমর্থন করি।’পরিসংখ্যানের দিক থেকেও হাসান বেশ সফল। এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৩৬টি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে দুবার পাঁচ উইকেট ও একবার চার উইকেট শিকার করেছেন।সাদা বলের ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। ২৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩৩টি এবং ২৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৮টি উইকেট শিকার করেছেন এই ডানহাতি পেসার।

Go to News Site