Collector
চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা মামুনের ‘চতুর্ভুজ প্রেম-বিয়ের’ বলি শারমিন! | Collector
চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা মামুনের ‘চতুর্ভুজ প্রেম-বিয়ের’ বলি শারমিন!
Somoy TV

চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা মামুনের ‘চতুর্ভুজ প্রেম-বিয়ের’ বলি শারমিন!

চাকরিচ্যুত মেজর আব্দুল্লাহ আল মামুনের জীবনে একের পর এক সম্পর্ক ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতার জাল। পরকীয়ার কারণে একসময় তিনি চাকরি হারান, আর নতুন একাধিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে এখন তিনি হত্যা মামলার আসামি। চার নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে তার এই নাটকীয় জীবনের পর্দা ফাঁস হয় প্রেমিকা শারমিন আক্তার শেলীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে। এ যেন চতুর্ভুজ প্রেমের এক করুণ পরিণতি।গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর কদমতলীর জুরাইন কমিশনার গলির ৯৮৪/১ নম্বর বাড়ির একটি বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ফ্ল্যাটের বাসিন্দা শারমিন আক্তার শেলীর অর্ধগলিত মরদেহ। ভবনের বাসিন্দারা জানান, দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গন্ধ পান। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২২ এপ্রিল বোরকা পরা এক নারী কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো এক ব্যক্তিকে অনুসরণ করছেন। ওই ব্যক্তির গন্তব্য ছিল ৯৮৪/১ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট। ঘটনাটি ঘটার চার দিন পরই ওই ভবনের একটি বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে শারমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও পড়ুন: দেশে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যেসব কারণ দেখছেন মনোবিজ্ঞানীরা স্থানীয়রা জানান, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেয়া ওই ফ্ল্যাটে মূলত থাকতেন শারমিন আক্তার শেলী। আর তার স্বামী পরিচয়ে ছিলেন সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর আব্দুল্লাহ আল মামুন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের শুরুতে পুলিশের হাতে আসে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে শারমিনের কথিত স্বামীকে সন্দেহজনকভাবে দেখা যাওয়ায় তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন মামুন। প্রশ্ন ওঠে, তিনিই কি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কেউ? সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২২ এপ্রিল রাত ৮টা ৮ মিনিটে অটোরিকশাযোগে জুরাইনের কমিশনার গলিতে আসেন মামুন। পরদিন সকালে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে হত্যার দায় অস্বীকার করেন মামুন। এরপর পুলিশ আরও গভীর তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পুনরায় পরিদর্শন ও আরও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মামুন বেরিয়ে যাওয়ার পর বোরকা পরিহিত এক নারী একই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তদন্তে জানা যায়, তিনি ছিলেন মামুনের আরেক প্রেমিকা মোহনা। পরে মোহনাকে গ্রেফতার করা হয়। মামুন ও মোহনাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। ঢাকা মহানগর পুলিশের কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, মোহনা শারমিনকে বলেন, ‘তুমি মেজরের সঙ্গে কেন সম্পর্ক রেখেছো, তাকে ছেড়ে দাও।’ কিন্তু শারমিন তাতে রাজি হননি। একপর্যায়ে মোহনা তার গলা চেপে হত্যা করেন। আরও পড়ুন: ত্রিভুজ প্রেমের জেরে সহকর্মী খুন, ফেসবুক আইডিকে ঘিরে রহস্য পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ সালে পরকীয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে চাকরিচ্যুত হন মেজর মামুন। পরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় শারমিনের সঙ্গে এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে শারমিনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা অবস্থায়ই ২০২৪ সালে মামুন আরেক নারীকে বিয়ে করেন। স্ত্রী ও প্রেমিকার পাশাপাশি পরে মোহনার সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান তিনি। মোহনা বিষয়টি জানতে পেরে শারমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, মেজর মামুনের প্রথম একজন স্ত্রী ছিলেন। তাকে ডিভোর্স দেয়ার পর নিহত শারমিনের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন। পরে তিনি আরও একটি বিয়ে করেন এবং সেই সংসারে তার একটি সন্তানও রয়েছে। এসব সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হননি, হত্যাকাণ্ড আড়াল করতেও মোহনা পরিকল্পিতভাবে নানা নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পরে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মোহনা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামুনও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে।

Go to News Site