Somoy TV
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বুধবার (৩ জুন) ভোরে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ হামলা চালিয়েছে ইরান।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা (KUNA) জানিয়েছে, হামলায় ‘কয়েকজন’ আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া, হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১ ভবনেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর সিএনএন’র। প্রতিবেদন অনুসারে, হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েতে সব ধরনের ফ্লাইট ও আকাশপথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। টার্মিনাল–১ ভবনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ওই বিমানবন্দরের প্রধান কেন্দ্র। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের এক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামত শেষে এটি সোমবারই (১ জুন) পুনরায় চালু করা হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, নতুন এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আরও পড়ুন: কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা! এর আগে, মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার (২ জুন) দাবি করে যে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ‘সফলভাবে প্রতিহত’ করেছে এবং ‘আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে’ ইরানের কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একইসঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সেই দাবিও অস্বীকার করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং ওই অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তবে কোনোটিই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কুয়েতের দিকে নিক্ষেপ করা দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়ে বা পথেই বিকল হয়ে যায়। এবং বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও বাহরাইনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে ভূপাতিত করে।’ কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। সেন্টকম জানায়, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব ড্রোন আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যে’ চুক্তির আশা ট্রাম্পের কেশম দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান কার্যত এই নৌপথ বন্ধ করে রেখেছে। সেন্টকম জানায়, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ‘ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন’। এ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি বলেও দাবি তাদের। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।
Go to News Site