Collector
ভালোবাসাই শিশুকে সত্যিকারের মানুষ বানাতে পারে | Collector
ভালোবাসাই শিশুকে সত্যিকারের মানুষ বানাতে পারে
Jagonews24

ভালোবাসাই শিশুকে সত্যিকারের মানুষ বানাতে পারে

রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক গভীর সতর্ক সংকেত। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তিনি মৃত্যুর পর প্রায় কয়েক দিন একাই ফ্ল্যাটে পড়ে ছিলেন। এই ধরনের ঘটনা শুধু একটি মৃত্যুর খবর নয়, বরং আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন এবং মানবিক মূল্যবোধের ভেতরে থাকা শূন্যতাকে স্পষ্ট করে দেয়। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে-মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু খাবার বা আশ্রয় নয়, বরং ভালোবাসা, খোঁজখবর এবং সংযোগ। একজন বৃদ্ধা যদি এতদিন ধরে কারো নজরের বাইরে থাকেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে,আমরা কি সত্যিই আমাদের পরিবারকে সময় দিচ্ছি? শিশুদের কী শিক্ষা দিচ্ছি? ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি একইভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে? ভালোবাসা শেখানো শুরু হয় ঘর থেকেই শিশুকে ভালোবাসা শেখানো কোনো বইয়ের পাঠ নয়, এটি জীবনের প্রতিদিনের আচরণ থেকে আসে। শিশু যা দেখে, সেটাই শেখে। বাবা-মা যদি নিজের মা-বাবাকে সম্মান না করেন, সময় না দেন, তবে শিশুও সেই আচরণই শিখবে। তাই প্রথম দায়িত্ব হলো পরিবারের ভেতরে সম্পর্ককে মানবিক করে তোলা। শিশুকে শেখাতে হবে,ভালোবাসা মানে শুধু আবেগ নয়, দায়িত্বও। দাদা-দাদি, নানী-নানা বা বয়স্কদের প্রতি সম্মান দেখানো, তাদের কথা শোনা, সময় দেওয়ার মতো ছোট ছোট আচরণই বড় হয়ে চরিত্র গঠন সাহায্য করে। অনুভূতি বোঝাতে শেখানো শিশুর মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করা খুব জরুরি। তাকে জিজ্ঞেস করুন- ‘তুমি যদি একা হয়ে যাও, তোমার কেমন লাগবে?’ এমন প্রশ্ন শিশুর ভেতরে অন্যের কষ্ট বোঝার ক্ষমতা তৈরি করে। শুধু শাস্তি বা উপদেশ নয়, গল্প, বাস্তব উদাহরণ এবং পারিবারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো সবচেয়ে কার্যকর। একাকীত্বের ঘটনা শিশুকে বয়সভেদে বোঝানো যায়। তাদের বোঝানো উচিত মানুষ একা থাকলে কষ্ট পায়, তাই আমাদের উচিত একে অপরের পাশে থাকা। প্রযুক্তির বাইরে সম্পর্কের জগৎ বোঝানো বর্তমানে শিশুরা মোবাইল, গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে বেশি সময় কাটাচ্ছে। ফলে বাস্তব সম্পর্কের অনুভূতি কমে যাচ্ছে। তাই পরিবারের উচিত নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থেকে একসঙ্গে সময় কাটানো,খাওয়াদাওয়া করা, গল্প করা বা শুধু কথা বলার মতো ছোট অভ্যাসগুলোই শিশুর মধ্যে আবেগগত সংযোগ তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে তাকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। পশুর প্রতি ভালোবাসা শেখানো শিশুকে শুধু মানুষের প্রতি নয়, প্রাণীর প্রতিও ভালোবাসা শেখাতে হবে। একটি ছোট বিড়াল, কুকুর বা পাখির প্রতি দয়া দেখানো শিশুর মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করে। শিশুকে শেখাতে পারেন রাস্তায় থাকা প্রাণীকে আঘাত না করা, বরং তাদের প্রতি সদয় আচরণ করা। ক্ষুধার্ত প্রাণীকে সামান্য খাবার দেওয়া, তাদের কষ্ট অনুভব করার চেষ্টা করা এবং বোঝানো যে তারাও জীবিত সত্তা, এগুলো শিশুর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। এছাড়া পাখির বাসা নষ্ট না করা, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং প্রাণীর নিরাপত্তার প্রতি যত্নশীল হওয়া শিশুকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। এতে সে শিখে যায়, পৃথিবীর সব প্রাণীরই বেঁচে থাকার অধিকার আছে। যে শিশু পশুর প্রতি দয়ালু হয়, সে সাধারণত মানুষের প্রতিও বেশি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। বন্ধু, পরিবার ও আনন্দ ভাগাভাগি শেখানো শিশুকে শুধু নিজের জগতেই আটকে রাখলে চলবে না। তাকে শেখাতে হবে বন্ধুদের ভালো লাগায় আনন্দ পাওয়া, কারো সফলতায় খুশি হওয়া, এবং নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে ভাবতে শেখা। অনেক সময় আমরা শিশুকে শুধু পড়াশোনার চাপ দিই। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই মানুষ বানাবে না ভালোবাসা, সহানুভূতি, এগুলোই একজন মানুষকে মানুষ বানায়। সূত্র: ইউনিসেফ, আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যান্ড মেডিসিন, টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও পড়ুন অতিরিক্ত সুরক্ষা কি আপনার শিশুকে দুর্বল করে দিচ্ছে শিশু সবকিছুতেই ‘না’ বলছে? জানুন এটি আসলে কীসের লক্ষণ  এসএকেওয়াই

Go to News Site