Collector
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের মেয়াদ শেষ দুই মাস আগে, তবুও বিতরণের অভিযোগ | Collector
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের মেয়াদ শেষ দুই মাস আগে, তবুও বিতরণের অভিযোগ
Jagonews24

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের মেয়াদ শেষ দুই মাস আগে, তবুও বিতরণের অভিযোগ

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ফার্মেসির বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া ওষুধ দেওয়া হচ্ছে রোগীদের হাতে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। জেলার পাঁচ উপজেলার ১২-১৪ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা নেন সদর হাসপাতাল থেকে। এখানে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি হাসপাতালটির শয্যা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২৫০ করা হয়। বুধবার (৩ জুন) হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে সেবা নিতে এসেছেন। তারা টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে স্লিপ হাতে ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিচ্ছেন। তবে চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ। সবচেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে বেশি চাহিদাকৃত ইসোরাল ৪০ ওষুধ। স্থানীয়রা এটিকে ‘গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ’ বলেই চেনেন। ওষুধটি চারটির বেশি পাচ্ছেন না কোনো রোগী। ওষুধের গায়ে মেয়াদ লেখা ছিল ৪ এপ্রিল ২০২৬। অর্থাৎ প্রায় দুই মাস আগেই শেষ হয়েছে মেয়াদ। তারপরও সরবরাহ করা হচ্ছে এই ওষুধ। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অসুস্থ বোধ করায় সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এসে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখাই। পরে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিই। তবে খেয়াল করে দেখি গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের মেয়াদ নেই। প্রায় দুই মাস আগেই শেষ হয়েছে মেয়াদ।’ আরেক রোগী হামিদুর রহমান বলেন, ‘ওষুধের মেয়াদ নেই দেখে ফার্মেসিতে গিয়ে জানালে ওনারা বলেন, ভুল হয়েছে। পরে নতুন করে ওষুধ দেন। যা এক পাতার দুই পাশ থেকে কাটা চারটি ওষুধ। ওখানে কোনো তারিখ দেখা যাচ্ছে না। এখন চিন্তায় আছি এই ওষুধেরও মেয়াদ আছে কি-না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার মা ঈদের আগে হাসপাতালে গিয়ে ওষুধ এনেছেন। বাড়িতে আসার পর দেখি গ্যাস্ট্রিকের (ইসোরাল ৪০) ওষুধের মেয়াদ দুই মাস ও একটি মলমের মেয়াদ তিন মাস আগে শেষ হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবহার করতে দেইনি। সরকারি হাসপাতালের সেবা যদি এমন হয়, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কী হবে?’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ হান্নান বলেন, ‌‘হাসপাতালে নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘মেয়াদ একদিন ওভার হলেও সে ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের ফলে শরীরে নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। এরমধ্যে লিভার ও কিডনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।’ রুবেলুর রহমান/এসআর/এএসএম

Go to News Site