Collector
‘সেতু পার হওয়ার পর মনে হয় বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম’ | Collector
‘সেতু পার হওয়ার পর মনে হয় বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম’
Jagonews24

‘সেতু পার হওয়ার পর মনে হয় বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম’

প্রতিদিন সেতু পার হন হাজারো মানুষ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—সবার জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু সেই সেতুতে উঠলেই বুক কেঁপে ওঠে। কোথাও রেলিং নেই, কোথাও ঝুলে আছে ভাঙা অংশ। পাটাতনের জায়গায় বসানো হয়েছে কাঠ। বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড। সামান্য নড়াচড়াতেই কেঁপে ওঠে পুরো কাঠামো। বলছিলাম, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার সংলগ্ন সেতুটির কথা। প্রায় তিন দশক আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও বিকল্প কোনো পথ না থাকায় প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়েই চলাচল করছেন কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর নির্মিত হয়েছিল সেতুটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। প্রায় এক যুগ ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে কাঠামোটি। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের বেশ কয়েকটি রেলিং ভেঙে গেছে। কিছু অংশ বাতাসে ঝুলছে। বাজারসংলগ্ন অংশে বাঁশের কঞ্চি ও ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী রেলিং তৈরি করা হয়েছে। সেতুর পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কংক্রিট খসে বেরিয়ে এসেছে রড। মাঝের অংশে জোড়া পিলার দেবে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে উঁচুনিচু ঢেউয়ের মতো অবস্থা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সেতুর ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চললেই পুরো কাঠামো কাঁপতে থাকে। এতে পথচারী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝুঁকি জেনেও পারাপার কাগদী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাতায়াতের জন্য এই সেতুই প্রধান ভরসা। দুই পাড়ের শত শত শিক্ষার্থীও প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে। ভ্যানচালক রবিউল মোল্লা বলেন, ‘এই পথ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। প্রতিদিন ভয় নিয়েই সেতু পার হই। সেতু পার হওয়ার পর মনে হয় বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম।’ কৃষক দবির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘সেতুর অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। দ্রুত এটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।’ স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী—সবাই এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। হাটের দিন কৃষিপণ্য নিয়ে ভ্যানে পারাপার করতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়তে হয়।’ সালথার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রায়ই শুনি নতুন সেতু হবে। কর্মকর্তারা এসে মাটি পরীক্ষা করে যান, আশ্বাস দেন। কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না।’ সরু সেতু, বাড়ছে দুর্ভোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি এতটাই সরু যে একটি ভ্যান বা ছোট যানবাহন পার হওয়ার সময় বিপরীত দিকের যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হয়। ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবাগ্রহণেও ভোগান্তি বাড়ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে সবাই আতঙ্কে থাকে। মানুষ মনে করে সেতু পার হতে পারলেই যেন নতুন জীবন পেল। কয়েক হাজার মানুষের জন্য এটি এখন বড় উদ্বেগের কারণ।’ প্রকল্পের অপেক্ষায় নতুন সেতু সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। সালথা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘কাগদী বাজার সংলগ্ন সেতুটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পাটাতন ও রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি এটি খুবই সরু হওয়ায় যান চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি জানান, সেতুটির গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। তবে সেই অনুমোদন কবে মিলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি। এদিকে প্রতিদিনের মতো আজও ঝুঁকি নিয়েই সেতু পার হচ্ছেন মানুষ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নতুন সেতুর কাজ শুরু হওয়ার আগেই পুরোনো কাঠামোটি বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই তারা দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এন কে বি নয়ন/কেএইচকে/এএসএম

Go to News Site