Collector
মায়ের পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার: সন্তানদের কাছে জবাব চেয়ে আইনি নোটিশ | Collector
মায়ের পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার: সন্তানদের কাছে জবাব চেয়ে আইনি নোটিশ
Jagonews24

মায়ের পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার: সন্তানদের কাছে জবাব চেয়ে আইনি নোটিশ

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তার চার সন্তানের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে মায়ের ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের নজরে আনার কথা জানানো হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এ নোটিশ পাঠান। জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, রাজধানীর মিরপুরে নিজ ফ্ল্যাটে একাকী অবস্থায় মারা যাওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সন্তানদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আরও পড়ুন সেই বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চেয়ে রিটযুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন, নূর জাহান বেগমের বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান (যুগ্ম সচিব, খুলনা সমুদ্র বন্দর) মেজ ছেলে অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান (শিক্ষক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), ছোট ছেলে কে এম আতিকুর রহমান (কানাডাপ্রবাসী) এবং মেয়ে ফাতেমা নাসরিন সুলতানা (মিরপুরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা)। আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, নোটিশে বৃদ্ধা মায়ের প্রতি সন্তানদের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে লিখিতভাবে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে। অন্যথায়, বিষয়টি জনস্বার্থে উচ্চ আদালতের নজরে আনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নোটিশে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন একা বসবাস করছিলেন নূরজাহান বেগম। একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর প্রায় সাতদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী বৃদ্ধার একাধিক সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় যত্ন, সেবা, খোঁজখবর ও মানবিক সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তার মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি নোটিশে সন্তানদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাদের মা নূরজাহান বেগমের ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে তারা কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি মৃত্যুর পূর্ববর্তী সময়ে মায়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে মায়ের শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন কিংবা অবস্থান সম্পর্কে তারা কীভাবে অবগত ছিলেন না অথবা কেন অবগত হননি, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। মায়ের প্রতি আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রমাণ ও দলিলাদি দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে নোটিশে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে স্বাধীন তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাতেও বলা হয়েছে। নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিটি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা, জীবন ও নিরাপত্তার অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক সুরক্ষিত। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও একে অপরের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও অসহায় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। এতে আরও বলা হয়, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এর বিধান অনুযায়ী সন্তানদের ওপর মা-বাবার ভরণ-পোষণ, সেবা-যত্ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা জনস্বার্থে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে আগাম অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। বরং একটি আলোচিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে সত্য উদঘাটন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই এর মূল লক্ষ্য। নোটিশে সতর্ক করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া গেলে বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট এখতিয়ার ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। নোটিশে শেষাংশে বলা হয়, নূরজাহান বেগমের মৃত্যু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বেদনার ঘটনা হলেও এটি একই সঙ্গে সমাজে প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং পারিবারিক বন্ধনের অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন। ফলে বিষয়টি এখন কেবল একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার দাবি রাখে। এমডিএএ/এমএএইচ/

Go to News Site