Somoy TV
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি দল স্থানীয়দের সহায়তায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে।বুধবার (৩ জুন) দুপুরে দিঘির পূর্ব পাড়ের একটি ছোট পুকুর থেকে কুমিরটিকে ধরা হয়। পরে হাত-পা ও চোখ বেঁধে বন বিভাগের গাড়িতে করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেয়া হয়। কুমিরটিকে উদ্ধারের জন্য এদিন সকাল থেকেই বন বিভাগসহ প্রশাসনের লোকজন মাজার এলাকায় উপস্থিত হন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির দেখা মেলে। পরে দুপুর ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে কুমিরটিকে বেঁধে ফেলা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিঘি থেকে তুলে গাড়িতে করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন বন বিভাগের কর্মীরা। কুমির উদ্ধারের সময় খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু রাসেল, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন এবং বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাজারের কুমিরটিকে শেষবারের মতো দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় করেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ দর্শনার্থীদের কুমিরের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি। এদিকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অপসারণের পরপরই মাজারের প্রধান ঘাটে অনেক দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিশ্চিন্তে গোসল করতে দেখা যায়। আরও পড়ুন: শিশুর মৃত্যুর পর মাজারের দিঘি থেকে কুমির অপসারণ ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ‘জননিরাপত্তার স্বার্থে মাজারের দিঘির কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কুমিরের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তা পরে জানানো হবে।’ গত সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে মাজার সংলগ্ন দিঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার রাত ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভাতেই কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল প্রশাসন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। তবে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে কেউ কুমিরকে কুকর খাওয়ায়নি।
Go to News Site