Somoy TV
বাজেটের আগেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার সাধারণ জনগণের ওপর এক অসহনীয় ও বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় স্থানীয় নাগরিকদের নিয়ে কাফরুল থানা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য ও কর্মসূচির ঘোষণা দেন।অনুষ্ঠানে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইরান যুদ্ধকালীন কূটনৈতিক ব্যর্থতায় দেশে আজ ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সরকার বিরোধী দলকে উপেক্ষা করে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় বাজেট পেশের আগেই সবকিছুর দাম বাড়ানোর এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ আরও পড়ুন: বিচারের নামে অবিচার ও দীর্ঘসূত্রিতায় দেশে অপরাধ বাড়ছে: ডা. শফিকুর রহমানসংসদীয় গণতন্ত্র ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদ কার্যকর থাকলে দেশ সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। কারণ মাথা ঠিক থাকলে লেজও ঠিক থাকে। তবে আমরা কেবল নামসর্বস্ব কোনো গৃহপালিত বিরোধী দল হব না। সংসদ ও রাজপথ–উভয় মাঠেই বিরোধী দল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে জামায়াতে ইসলামী বদ্ধপরিকর।’দেশের ব্যাংকিং খাতের চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের আমানত হেফাজত না করে সরকার এক এক করে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখন ফ্যাসিবাদী কায়দায় ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা চলছে।’তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর যদি আর কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে আমি নিজে সরাসরি রাজপথে আন্দোলনে নামব।’ব্যাংক খাতের এই অরাজকতার কারণে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ভয়ে প্রবাসীরা যদি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে দেয়, তবে দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।
Go to News Site