Somoy TV
বিদ্যুতের দাম ও সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের স্টিল মিল মালিকরা। বুধবার (৩ জুন) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) জানায়, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা শিল্পখাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ প্রায় ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। স্টিল মিল মালিকদের মতে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে শিল্পখাত দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ব্যয়চাপে রয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়া, নির্মাণ খাতের মন্দা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কারখানা এখন লোকসান বহন করে চলছে। তারা আরও জানান, গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং ডিমান্ড চার্জ ১২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে গ্যাসের দামও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আরও পড়ুন: বাড়ল বিদ্যুতের দাম বিবৃতিতে বলা হয়, স্টিল শিল্পের বড় কারখানাগুলো ৩৩ কেভি, ১৩২ কেভি ও ২৩০ কেভি লাইনের সরাসরি গ্রাহক হলেও ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও অন্যান্য অতিরিক্ত খরচে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। নিজেদের সাবস্টেশন থাকলেও এসব ব্যয় থেকে রেহাই মিলছে না। স্টিল মিল মালিকরা সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগ কমে যাবে এবং দেশের শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান ও শিল্প স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ মূল্য বৃদ্ধি শুধু একটি ট্যারিফ নয়, এটি শিল্প টিকে থাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই নতুন মূল্যহার অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) সঞ্চালন ব্যয় বিবেচনায় বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার (হুইলিং চার্জ) ভারিত গড়ে প্রতি ইউনিট ৩১.৩৫ পয়সা থেকে ৩৮.৮৬ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ৭.৫১ পয়সা বা প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কমিশনের এ আদেশ ২০২৬ সালের জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
Go to News Site