Collector
কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় আইভী, ধন্যবাদ দিলেন সরকারকে | Collector
কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় আইভী, ধন্যবাদ দিলেন সরকারকে
Jagonews24

কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় আইভী, ধন্যবাদ দিলেন সরকারকে

কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৩ জুন) রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসায় আসেন তিনি। এসময় সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মায়েরা আছেন, আশা করি সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে। এদিকে আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, বুধবার বিকেলে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। খবর পেয়ে আমি ও তার পরিবারের লোকজন আসি। রাত ১০টার দিকে তিনি মুক্তি পান। এই আইনজীবী আরও বলেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২টি মামলার জামিন বহাল রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ যে অর্ডার দিয়েছে সেগুলো নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসে। যেদিন এটি নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসে একই দিন সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন চেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি আবেদন করি। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজ কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এর মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ জামিনের কাগজ কাশিমপুর পৌঁছায়। আরও পড়ুনকারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভীআইভী গ্রেফতারআইভীকে নতুন মামলায় গ্রেফতার না করার নির্দেশ হাইকোর্টের গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট গত বছরের ৯ নভেম্বর আইভীর জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল করে। লিভ টু আপিলগুলো খারিজ করে ১০ মে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ফলে পাঁচ মামলায় আইভীর জামিন বহাল থাকে। তবে প্রথম দফার ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর আইভীকে আরও পাঁচ মামলায় গত বছরের নভেম্বরে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা। অপরটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা মামলা। দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ৫ মার্চ চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। দ্বিতীয় দফার এই পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল ১০ মে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আপিল বিভাগ আইভীর জামিনে এর আগে চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টে রুল (জামিন প্রশ্নে) নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। ফলে দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল হয়। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। মোবাশ্বির শ্রাবণ/ইএ

Go to News Site