Somoy TV
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। তবে এর মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শেষেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে ভয়াবহ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, ইরান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে ড্রোন ব্যবহার করে এই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের এই ঘটনার পরপরই ওমান সাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, হরমুজ প্রণালীর নিয়ম লঙ্ঘন এবং ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্টকম এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। আরও পড়ুন: খামেনির দাফনে ২ কোটি মানুষের জমায়েতের প্রস্তুতি এমন চরম উত্তেজনার মাঝেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টের এক পডকাস্টে ট্রাম্প বলেন, পর্দার আড়ালের আলোচনাগুলোতে খামেনি সরাসরি জড়িত এবং তাদের মধ্যে বোঝাপড়া বেশ ভালো হচ্ছে। দুই দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। এদিকে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ‘খুব ভালোভাবেই’ এগিয়ে যাচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষেই একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হেফাজতে নেয়া হবে বলেও জানান ট্রাম্প। সমঝোতা স্মারক সই হওয়া মাত্রই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস, চাপে ট্রাম্প অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং দু’পক্ষই প্রস্তাবিত খসড়াগুলো খতিয়ে দেখছে। তবে যেকোনো বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে ইরান তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেবে উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, বেসামরিক জাহাজে মার্কিন হামলা ঠেকাতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী আত্মরক্ষামূলক অভিযান চালাচ্ছে।
Go to News Site