Collector
ছয় মাসের কাজ শেষ হয়নি ৩ বছরেও, ভাঙা রাস্তায় হাঁটাও দায় | Collector
ছয় মাসের কাজ শেষ হয়নি ৩ বছরেও, ভাঙা রাস্তায় হাঁটাও দায়
Somoy TV

ছয় মাসের কাজ শেষ হয়নি ৩ বছরেও, ভাঙা রাস্তায় হাঁটাও দায়

নড়াইলের কালিয়ায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণে খোঁড়াখুঁড়ি আর পাথর বিছানো অবস্থায় পড়ে আছে। মাত্র ছয় মাস মেয়াদের কাজ নয় মাস ধরে করেও অসমাপ্ত রেখে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কের এমন দশায় গত তিন বছর ধরে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এই সড়কে যান চলাচল তো দূরের কথা হাঁটাও এখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।জেলা সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, নড়াইল জেলা শহরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকাসহ পাশের গোপালগঞ্জ জেলার সড়ক যোগাযোগ সহজীকরণে ২০২২ সালে পরিকল্পনা হাতে নেয় সড়ক বিভাগ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।২০২৩ সালে সড়কটির পানিপাড়া থেকে নড়াগাতী অংশের পাঁচ কিলোমিটারে সংস্কার ও প্রশস্তকরণে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু করে নভেম্বর নাগাদ সড়কটিতে খোঁড়াখুঁড়ির পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশ প্রশস্তকরণে কাজ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।সরকার নির্ধারিত কাজের মেয়াদ ছয় মাস থাকলেও নয় মাস ধরে খোঁড়াখুঁড়ি আর কিছু পাথর ফেলে কাজ বন্ধ করে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।আরও পড়ুন: দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজশাহী নগরীর রাস্তাঘাটএ বিষয়ে স্থানীয় জিহাদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সংস্কার কাজ চলা এই সড়কটির দুই পাশে খাশিয়াল এ জয়নগর ইউনিয়নের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষ বসবাস করেন। এসব বাসিন্দা আশপাশের এলাকা ও দূর-দূরান্তের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু সংস্কারের জন্য খুঁড়ে ফেলা রাস্তায় বিগত তিন বছর ধরে একদিকে বৃষ্টিতে কাদা-মাটিতে একাকার থাকে। আর শীতকালে সীমাহীন ধুলোবালিতে আমাদের দুর্ভোগ চরমে। এই সড়কে যান চলাচল তো দূরের কথা চলাফেরাই এখন কষ্টকর।’নড়াগাতী এলাকার ব্যবসায়ী আমানত ইসলাম বলেন, ‘সড়ক সংস্কারের নামে পাথর ছিটিয়ে রেখে মানুষ মারার কল করে গেছে ঠিকাদার। যে কোনো ধরনের গাড়ি চলাচল করলে চাকার ধাক্কায় রাস্তার ওপর বিছানো আলগা পাথর ছুটে পথচারী আহত হয়। পাশাপাশি রাস্তার পাশে থাকা দোকানপাট, বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সড়ক ধরে কোনো রোগী নিয়ে জেলা শহরে যাওয়ার আগেই তাকে গোরস্থানে নেয়ার উপক্রম। স্কুলগামী শিশু, কৃষক, রোগীসহ সবাই পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।’ নড়াইল শহরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকাসহ পাশের গোপালগঞ্জ জেলার সড়ক যোগাযোগ সহজীকরণে ২০২২ সালে পরিকল্পনা হাতে নেয় সড়ক বিভাগ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ফাইল ছবিঅটোরিকশা চালক ইস্রাফিল বলেন, ‘এই রাস্তায় অটো চালায় ইনকাম হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কিন্তু প্রতিনিয়ত ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে এটা ওটা নষ্ট হতেই থাকে। প্রতি সপ্তাহে অটোর পেছনে অন্তত ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা খরচ, আর ওই দিন তো পুরো মাইর। এই রাস্তায় গাড়ি চালায়ে প্রতিদিন ভাত খাই বা না খাই ব্যথার ওষুধ খাওয়া তো বাধ্যতামূলক। এভাবে তো একটা সংসার চালানো মুশকিল।’আরও পড়ুন: সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো ৩০ কোটি টাকার দুই সেতুএ বিষয়ে খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ বলেন, ‘তিন বছর হয়ে গেল সড়কের কাজ শেষ হলো না। খোঁড়া সড়কে খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে৷ প্রতিনিয়তই ইজিবাইক-ভ্যান উল্টে যাচ্ছে, আর ঘটছে ছোটো বড় দুর্ঘটনা। বারবার সড়ক বিভাগে আবেদন জানিয়েও মেলেনি কোনো সুরাহা। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে, অবিলম্বে এই সড়কের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।’এ ব্যাপারে জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনূস এন্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই সড়কের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কিছু কাজ শুরু করার পর বাকি কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে তাদের কার্যাদেশ বাতিলের পাশাপাশি দুই দফায় ৮৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের অনুমোদন চেয়ে কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েও অবশেষে মিলেছে অনুমোদন।’তিনি আরও বলেন, ‘দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু করে এ বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ সড়কটির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হবে বলে আশা রাখছি।’কালিয়া উপজেলার পানিপাড়া থেকে নড়াগাতী অংশের পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও দুপাশের ৬ ফুট প্রশস্তকরণে অসমাপ্ত কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

Go to News Site