Collector
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা | Collector
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা
Jagonews24

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা

এক নতুন কূটনৈতিক দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়াকে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নতুন আশার আলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে কুয়ালালামপুরের প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিটি স্তরে এখন একটাই আলোচনা—‘প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং প্রবাসীদের ভাগ্যবদল’। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। একই সঙ্গে সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন প্রবাসীরা। অনেকেই আশাপ্রকাশ করেছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারপ্রধানের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও সম্প্রসারণের ব্যাপারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। মালয়েশিয়া প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। মালয়েশিয়া প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মীবান্ধব শ্রমবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা এলে তা হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য বড় সুখবর হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন এবং ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সূচি প্রায় চূড়ান্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ থেকে ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি আগে ঢাকায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সফরটি প্রবাসীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর সাধারণত বড় কোনো কৌশলগত বা অর্থনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠিত হয়। সে বিবেচনায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হতে পারে। সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‌শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০ থেকে ১৫ দিন কিংবা এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত তথ্য না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাজার কার্যত বন্ধ রয়েছে। ওই বছর মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দেয়, পূর্ব অনুমোদনপ্রাপ্ত বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ মে’র মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় নতুন করে বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ হাজারো কর্মী ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিকবার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিল মাসে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করেন। এরপর থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথমবার বন্ধ হয়েছিল ২০০৮ সালে। পরে ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হলেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালে আবারও তা স্থগিত করা হয়। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা। তাদের বিশ্বাস, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ সুগম হবে, আনডকুমেন্টেড কর্মীদের জন্য ইতিবাচক সমাধান আসবে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। সেই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও বাস্তব রূপ পাবে। এমআরএম

Go to News Site