Jagonews24
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অবহেলা এবং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে আটক করা হয়। হাসপাতাল ও রোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে শৈলকুপার বারইপাড়া গ্রামের মৃত রওশন শেখের ছেলে আবু জাফর কুসুম (৬৫) গুরুতর অসুস্থ হয়ে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রেফার্ড করেন। রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি চাইলে চালক বকুল মিয়া গাড়িতে জ্বালানি তেল না থাকার অজুহাতে রোগী পরিবহনে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা নিজেদের টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় তেলের ব্যবস্থা করলেও চালক বকুল মিয়া রোগী পরিবহনে যাবেন না বলে জানিয়ে দেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকা সত্ত্বেও চালকের একগুঁয়েমি এবং হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘক্ষণ কালক্ষেপণের কারণে উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অসুস্থ আবু জাফর কুসুম। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে শৈলকূপা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রোগীর ভাতিজা উল্লাস হোসাইন বলেন, আমরা তেলের টাকা দিতে চেয়েছি, চালককে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে রাজি হননি। এরপর বিকল্প ব্যবস্থা করতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসা পেতে দেরি হয়। যেকারণে হাসপাতালেই ছটফট করতে করতে আমার চাচা মারা গেছেন। এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চালক বকুল মিয়াকে থানায় আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক বকুল মিয়া সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে রোগীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া হাতিয়ে নিতেন। এসব অভিযোগে বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন চালক বকুল মিয়াকে কৈফিয়ত তলব নোটিশ দেন। শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন বলেন, রোগী মৃত্যুর বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলার মধ্যে পড়ে। এছাড়া তিনি যে নিজে অ্যাম্বুলেন্স চালাতেন না ও রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতেন- এসবের প্রমাণ মিলেছে। এ ব্যাপারে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি আমাদের নির্দেশ তোয়াক্কা করেননি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এম শাহাজান/এফএ/এমএস
Go to News Site