Collector
রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু | Collector
রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু
Jagonews24

রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে দুপুর পৌনে ১২টায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে এনে হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং ১১টা ৩৮ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়। শুনানি ঘিরে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বহুল আলোচিত এ মামলায় বিচারিক কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত যে কোনো দিন রায়ের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজকের দিনটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার ১৬ সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার ও শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়। এসময় আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’ শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানিয়েছে। ‘ডলার’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোহেল রানার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। তদন্ত ও মামলার নথিতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের নাম উল্লেখ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হতে পারে। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।’ রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ জানান, বুধবারের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা। এটি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে নেওয়া হয়। তদন্তকালে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এমডিএএ/একিউএফ

Go to News Site