Collector
শেষ পর্যন্ত ব্যাকআপ পারফরমাররাই হয়ে উঠতে পারেন লিগ নির্ধারক! | Collector
শেষ পর্যন্ত ব্যাকআপ পারফরমাররাই হয়ে উঠতে পারেন লিগ নির্ধারক!
Jagonews24

শেষ পর্যন্ত ব্যাকআপ পারফরমাররাই হয়ে উঠতে পারেন লিগ নির্ধারক!

শেষ পর্যন্ত কী হবে? কার হাতে উঠবে এবারের প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা? তা সময়ই বলে দেবে। ১৬ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে মোহামেডান কি আবার ঢাকা লিগে হারানো শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারবে? নাকি আবাহনীই আবারও চ্যাম্পিয়ন হবে? কিংবা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ অথবা প্রাইম ব্যাংকের কেউ হবে এবারের লিগ বিজয়ী? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হয়তো লিগের একাদশ তথা শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটা নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়, ওই ৪ দলের যার রিজার্ভ বেঞ্চ বেশি সমৃদ্ধ, যে দলে ব্যাকআপ পারফরমার যত বেশি সেই দলের সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। কারণ ৫ জুনের পর শেষ ২ ম্যাচে জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের হয়ে খেলার জন্য ২৯ ক্রিকেটার ব্যস্ত হয়ে উঠবেন। তাদের পক্ষে শেষ দুই ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুব কম। তাই তাদের ব্যাকআপ পারফরমাররাই হয়ে উঠতে পারেন লিগের ভাগ্য নির্ধারক। এ মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে থাকা মোহামেডানে (৮ খেলায় ১৪ পয়েন্ট) বিকল্প বা ব্যাকআপ পারফরমার অনেক বেশি। কত বেশি? মাঝে গত কয়েক বছর দল গঠনে অদূরদর্শিতায় শিরোপা না পাওয়া মোহামেডান এবার আগে ভাগেই এক ঝাঁক রিজার্ভ বেঞ্চ সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে রেখেছে। মোহামেডানের রিজার্ভ বেঞ্চ কতটা সমৃদ্ধ, তা জানতে বেশি কিছু জানার দরকার নেই। শুধু জেনে রাখুন, দেশের এক নম্বর লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন আর অন্যতম মারকুটে ওপেনার, টপ অর্ডার পারভেজ হোসেন ইমন মোহামেডানের একাদশে জায়গা পান না। এর বাইরে এবাদত হোসেন, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, রনি তালুকদার ও আনিসুল ইসলাম ইমন এবং সম্ভাবনাময় বাঁহাতি স্পিনার নাইম আহমেদকেও না খেলে ড্রেসিংরুমে ডাগআউটে বসে থাকতে হচ্ছে। শেষ ম্যাচের সূচি নিয়ে খানিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। সিসিডিএম কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১৪ জুন ওয়ানডে সিরিজ শেষে লিগের একাদশ তথা শেষ রাউন্ড আয়োজন করতে। তাই ১১ জুনের বদলে ১৫ জুন লিগের শেষ রাউন্ড অনুষ্ঠানের কথা ভাবা হচ্ছে। তাতে অসিদের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে ডাক পাওয়ার সবাই নিজ নিজ ক্লাবে ফিরে শেষ ম্যাচ খেলতে পারবেন। কিন্তু মোহামেডান ক্লাব তা মানতে নারাজ। মাঝে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ‘এ’ জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টের সময় ক্রিকেটার পাওয়া যাবে না, এটা জানা-বোঝার পরও মোহামেডান, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ, মিরাজ, তাসকিন ও সৌম্যদের দলে টেনেও তাদের সার্ভিস পায়নি। একবার ওই শীর্ষ ও নামী তারকাদের অনেক ঘটা করে দলে ভিড়িয়েও শেষ পর্যন্ত দল সুপার লিগে না ওঠায় তাদের সার্ভিস পায়নি মোহামেডান। আবার একবার এমনও হয়েছে যে, তারকা ক্রিকেটারদের ব্যাকআপ পারফরমার ছিল না দলে। ফলে জাতীয় দলের তারকারা না থাকায় পর্যাপ্ত ও যথাযথ ব্যাকআপ পারফরমারের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেয়নি। সেই পূর্ব তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার মোহামেডান প্রচুর ক্রিকেটার দলে টেনেছে। সাদা-কালোদের রিজার্ভ বেঞ্চ ধরলে এবার ক্রিকেটার সংখ্যা ২০ ছাড়িয়ে গেছে। মোহামেডানের এবারের লাইনআপে আছেন এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, রনি তালুকদার (এখনও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি), আনিসুল ইসলাম ইমন (এখনও রিজার্ভ বেঞ্চেই কাটছে), তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, ইয়াসির আলী রাব্বি, রিশাদ হোসেন, সাইফউদ্দিন, তানভির ইসলাম, তাইবুর রহমান পারভেজ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, নাহিদ রানা, মুশফিক হাসান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, তাইজুল ইসলাম ও নাইম আহমেদ। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে কোনো বড় দলে এত প্রতিষ্ঠিত ও বিপুল নামী-দামি ক্রিকেটারের দেখা মেলেনি। এর একটাই কারণ, লিগ শুরুর আগেই জানা ছিল অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল আর জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল সিরিজ খেলতে আসবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। তখন জাতীয় ও ‘এ’ দলের পক্ষে ২৮-৩০ জন ক্রিকেটারের লিগ খেলা সম্ভব হবে না। তাই মোহামেডান এবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে ম্যাচ-পিছু কন্ট্রাক্ট করেছে। কারণ টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল এবং ‘এ’ দলের সম্ভাব্য পারফরমার কারা হতে পারেন, তা আগাম মাথায় এনেই মোহামেডান অত বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটার দলে ভিড়িয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার জন্য ১৫ জনের জাতীয় দল এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেওয়ার জন্য ১৪ জনের ‘এ’ দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। তাতে দেখা যাচ্ছে, সর্বাধিক ৭ ক্রিকেটার ডাক পেয়েছেন মোহামেডান থেকে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে জাতীয় দলের স্কোয়াডে আছেন মোহামেডানের সর্বাধিক ৫ জন; তাওহিদ হৃদয়, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন আর তানভির ইসলাম। তার মানে ইনফর্ম ব্যাটার ও অধিনায়ক হৃদয়, ২ ফ্রন্টলাইন পেসার তাসকিন, নাহিদ রানা আর লেগস্পিনার রিশাদ এবং বাঁহাতি স্পিনার তানভিরকে শেষ ২ ম্যাচে হয়তো পাবে না (শেষ ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ শেষে হলে ভিন্ন কথা) মোহামেডান। এর বাইরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘এ’ দলে জায়গা পেয়েছেন সাদা-কালো শিবিরের আরও দুজন—মিডল অর্ডার ব্যাটার ইয়াসির আলী রাব্বি ও পেসার মুশফিক হাসান। এই ৭ জন না থাকার পরেও মোহামেডানে থাকছেন এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, তাইবুর রহমান পারভেজ, সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, এবাদত হোসেন ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী এবং অফস্পিনার নাইম আহমেদ। সঙ্গে রনি তালুকদার ও টপ অর্ডার আনিসুল ইসলাম ইমনও ব্যাকআপ পারফরমার হিসেবে আছেন। এদিকে জাতীয় এবং ‘এ’ দল মিলিয়ে আবাহনীরও ৭ পারফরমার চলে যাবেন। এর মধ্যে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন আবাহনীর ৪ ফ্রন্টলাইনার—সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মোস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে ‘এ’ দলে ডাক পেয়েছেন পেসার খালেদ আহমেদ, বাঁহাতি স্পিনার রহমতউল্লাহ বর্ষণ, বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান ও ব্যাটার জাকের আলী অনিক। একইভাবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জেরও ৫ ক্রিকেটার ডাক পেয়েছেন। এর মধ্যে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ আর পেসার শরিফুল ইসলাম আছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলে। আর স্পিনিং অলরাউন্ডার সামিউন বশির ও আশিকুর রহমান শিবলীর জায়গা মিলেছে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ‘এ’ দলে। অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংকের তানজিদ হাসান তামিম আছেন জাতীয় দলে। আর শাহাদাত হোসেন দীপু ও আকবর আলীকে রাখা হয়েছে ‘এ’ দলে। এখন দেখার বিষয়, পয়েন্ট টেবিলে ওপরের দিকে থাকা ৪ দল—মোহামেডান, আবাহনী, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও প্রাইম ব্যাংকের কোন দল ওই নির্ভরযোগ্য পারফরমার ছাড়া খেলতে নেমে ঘাটতি পুষিয়ে মাঠে ভালো খেলে সাফল্য পায়! এআরবি/এমএমআর

Go to News Site