Jagonews24
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরা এক তরুণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে দক্ষতার সঙ্গে ড্রামস বাজাচ্ছেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। তার বাজনায় মুগ্ধ হয়েছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে-কে এই তরুণী? ভাইরাল হওয়া সেই তরুণীর নাম নাজিয়া সামান্থা। সংগীতের সঙ্গে তার সম্পর্ক আজকের নয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের উৎসাহে সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত তিনি। বিশেষ করে তার বাবার হাত ধরেই শুরু হয় গিটার, ভায়োলিন ও ড্রামস শেখার যাত্রা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাজিয়া জানান, সংগীতজগতে তার পথচলার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার বাবার। তিনি বলেন, ‘মিউজিক লাইনে আসা আমার বাবার মাধ্যমে। ছোটবেলা থেকে বাবা আমাকে গিটার, ভায়োলিন, ড্রামস-সবকিছুই শিখিয়েছেন। এভাবেই সংগীতের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে।’ নাজিয়ার কাছে ড্রামস শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং এটি তার দীর্ঘদিনের ভালোবাসার জায়গা। হিজাব পরা যেমন তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ, তেমনি ড্রামস বাজানোও তার পছন্দ ও আবেগের বিষয়। জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। নাজিয়া জানান, ২০২৫ সালে হজ পালন করার পর নিজের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনেছেন। আগে নাচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও হজ থেকে ফিরে সেসব ছেড়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘গত বছর আমি হজ করেছি। হজের আগে আমি ড্যান্স করতাম, রিং ড্যান্সও করতাম। কিন্তু হজের পরে সেগুলো ছেড়ে দিয়েছি। তবে ড্রামসের প্রতি আমার আলাদা একটা টান রয়েছে।’ ভাইরাল হওয়ার ঘটনাটিও ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। নাজিয়া জানান, তার ভাইয়ের ব্যান্ড ‘নবজাত’র একটি অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই ড্রামস বাজানোর সুযোগ পান তিনি। মূলত জ্যামিং করতে গিয়েই তৈরি হয় সেই ভাইরাল মুহূর্ত। নাজিয়া বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন শিক্ষক আমাকে চিনতে পারেন এবং ড্রামস বাজাতে বলেন। আমি মঞ্চে উঠে জ্যামিং শুরু করি। পরে অন্যরা গান ধরেন, আমিও স্বাভাবিকভাবে বাজাতে থাকি। এরপর হঠাৎ করেই দেখি ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেছে।’ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। বিশেষ করে হিজাব পরে ড্রামস বাজানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য এসেছে। তবে এসব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না নাজিয়া। তার মতে, মানুষের মন্তব্য থাকবেই। তবে নিজের বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং ভালোবাসার জায়গা থেকে যা করছেন, তা নিয়েই তিনি আত্মবিশ্বাসী। যারা তাকে সমর্থন ও ভালোবাসা দিচ্ছেন, তাদের উৎসাহই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে। আরও পড়ুন:এই সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিতে চাই: বাঁধন শাকিব খানের জন্য দুঃসংবাদ একটি সাধারণ জ্যামিং সেশন থেকে শুরু হওয়া মুহূর্তই আজ নাজিয়া সামান্থাকে পরিচিত করে তুলেছে হাজারো মানুষের কাছে। আর সেই কারণেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত নাম এই হিজাবি ড্রামার। এমএমএফ
Go to News Site