Somoy TV
খাল খনন কর্মসূচিতে স্বস্তি ফিরেছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। দুই মাসে ৪ কিলোমিটার খননে সাহাপাড়া খাল দিয়ে পানিপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা মুক্ত হয়েছে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর। এতে এ অঞ্চলে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, খাল খননের পাশাপাশি জেলায় রাস্তা, জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে। এতে সেচ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন। জমিতে সেচ ছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসন, খালের দুপাশে ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ, মৎস্য ও হাঁস পালন করা হবে।এ বিষয়ে বলরামপুরের কৃষক সমিরউদ্দিন জানান, খালটি খনন শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ খাল খনন হলে আমরা সেচ সুবিধা পাব। জলাবদ্ধতা থাকবে না।দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রকল্পের ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি খনন কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে। ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জলাবদ্ধতার জন্য যে সব জমি আবাদ হতো না সেই জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আসবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।আরও পড়ুন: কাটাগাং-দেওড়াছড়া খাল খননে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে হাওড়েএর আগে সম্প্রতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ এলাকার সংসদ সদস্য ও বোর্ডের কর্মকর্তারা খাল পরিদর্শন করেন।এ সময় খাল খনন যুগান্তকারী কর্মসূচি উল্লেখ করে এলাকার সংসদ সদস্য মনঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘খাল খনন শুধু সেচ দেয়ার জন্য নয় সারা বছর পানি ধরে রাখলে পানির স্তর ওপরে উঠবে; এর সুফল পাবে সাড়ে তিন লাখ মানুষ। সবচেয়ে লাভবান হবেন ক্যানেলের আশপাশে বসবাসরত মানুষ। খালগুলো ভরাট থাকলে জলাধারের সৃষ্টি হবে। এতে করে পানির স্তর উপরে উঠবে। এলাকাবাসী অতি সহজে পানি পাবেন।’পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী খাল খনন পরিদর্শন শেষে বলেন, অতীতে নদী ও খাল খননের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। আমরা সমন্বিতভাবে খনন করার পর খালগুলো ভবিষ্যতে পুনরায় ভরাট না হয়ে যায়। এজন্য সমন্বয় করে খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে এ অঞ্চলের কৃষি ও প্রকৃতিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।আরও পড়ুন: খুলনাঞ্চলে খাল খননে চ্যালেঞ্জ মৃতপ্রায় নদীউল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ কোদাল দিয়ে মাটি কেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে এতে মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সেচ ব্যবস্থায় অভাব ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সুফল পেতে শুরু করেছে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকাবাসী। দুই মাসে ৪ কিলোমিটার খননে সাহাপাড়া খাল দিয়ে পানিপ্রবাহ শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধতার সমস্যাও কেটে গেছে।প্রধানমন্ত্রী তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এ কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান উদ্যোগকে সে কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডে তথ্য মতে ২০২৭ সালে ১২ কিলোমিটার সাহাপাড়া খাল খননসহ রাস্তা, কালভার্ট ও একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে
Go to News Site